প্রতীমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা

সোহেল মাহমুদ:: মহালয়ায় দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিলো শারদীয় দুর্গাপূজার। এরপর পঞ্চমী তিথিতে অকাল বোধনে দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত হন ম-পে ম-পে। এসেছিলেন ঘোটকে (ঘোড়ায়), ফিরছেন দোলায়। শুক্রবার দর্পণ বিসর্জনের আগেই ঢাক, ঢোল আর কাশীর বাজনায় ফুটে ওঠে মা দুর্গার বিদায়ী বার্তা। ‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’ এ বাজনায় ভক্তদের মনে বিষাদের ছায়া নেমে আসে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি কৃষ্ণপদ দাস জানান, জেলার ৮৫০টি ম-পে শার্ন্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান জেলার ফুলতলা সিকিরহাট ঘাটে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় নৌকা শোভাযাত্রসহ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নৌকা বর্ণিল শোভাযাত্রা সহ নানা সাজে প্রতিমা ও পূণ্যার্থী এসে সিকিরহাট ঘাটে সমবেত হয় এবং সন্ধ্যায় বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুরো ভৈরব নদী জুড়ে তৈরী হয় এক উৎসবমূখর আবহ। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, আনাসার, ফায়ারসার্ভিস, কোষ্টগার্ড, নৌপুলিশ, মিডিয়া সহ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ সকলকে আগামী ২৪ অক্টোবর লক্ষ্মী পূজার আমন্ত্রন জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি, শ্যামল হালদার ও সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু জানান, নগরীর ১২৩টি ম-পে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। বিজয়া দশমীর পূজা শেষে রাতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে। তিনি জানান, এবার নগরীর জেলখানা ঘাট, চরেরহাট ঘাট, বিএলকলেজ গধি বামন ঘাট, দৌলতপুর লঞ্চঘাট ও রেলীগেট নগরবাড়ী ঘাট এই পাঁচটি ঘাটে বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান মহানগরীর জেলখানা ঘাটে সুশৃঙ্খল পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে ৩০টি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। তিনি এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। এবার নগরীর মুড়িপট্টিতে রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি পূজা কমিটির উদ্যোগে তাপস ভৌমিকের পরিচালনায় মিনি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা মহানগর পূজা কমিটির প্রচার সম্পাদক সুব্রত হালদার তপা বলেন, মিনি দুর্গা পূজা একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের। গতকাল বিজয়া দশমীতে দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা শেষে বিকেলে সিদুঁরখেলা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮টার পর সকল ম-প থেকে বের হয় বিজয় দশমীর বর্ণিল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ৫ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় আচারাদির মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গাকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীদুর্গা মর্ত্য থেকে ফিরলেন কৈলাশে।