ফের সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী: ওবায়দুল কাদের

 নির্বাচনের আগে যেসব দল এবং জোট সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের ফের গণভবনে ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা এবং এর আশেপাশের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা পর্যায়ের দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের সঙ্গে যৌথ সভার প্রাককালে তিনি এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী গতকাল (শনিবার) আমাদের সঙ্গে ওয়ার্কিং কমিটির উপদেষ্টা পরিষদেও যৌথ বৈঠকে বলেছেন, নির্বাচনের আগে যাদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে, তাদের আবারও আমন্ত্রণ করবেন, আহ্বান করবেন, নিমন্ত্রণ করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে সংলাপ হয়। যারা সংলাপে এসেছিলেন তাদের আবারও নেত্রী সংলাপের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। একইসঙ্গে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে আমরাও সবাই একমত।
ওবায়দুল কাদের বলেন,  প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কিছু মতবিনিময় করবেন এবং সেখানে নেতাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে।

আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলই গণভবনে আমন্ত্রিত। ঐক্যফ্রন্ট আছে, যুক্তফ্রন্ট আছে, ১৪ দল আছে, জাতীয় পার্টি আছে, এছাড়া অন্য যেসব দল আছে, সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেছিলেন, তাদের আবারও চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর সেটা খুব শিগগিরি জানিয়ে দেয়া হবে। এসময় আগামী উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তাতে আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে আমরা কখনো দুর্বল মনে করি না। আর সেটা মনে করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সেদিক থেকে বিএনপি বা তাদের ফ্রন্ট নির্বাচনে যদি আসে, সেক্ষেত্রে তাদেরকে স্বাগত জানাই। প্রতিদ্বন্ধিতামূলক নির্বাচনেরও আলাদা একটি মজা আছে। আমরা সেই রকম নির্বাচনই আশা করি। নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রার্থী করা ‘ভুল’ ছিল ড. কামাল হোসেনর এমন বক্তব্যের বিষয়ে কাদের বলেন, জেনে শুনে বিষ করেছি পান-বিষয়টি এমন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নেতারা একেক সময় একেক কথা বলেন, আর কামাল হোসেনের বক্তব্য এখানে আমরা স্ববিরোধী বলে মনে করছি। কেননা তিনি জেনে শুনেই তো বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছেন। জামায়াত ছাড়া তো বিএনপির কোনো অস্তিত্ব নেই। বিএনপি মানেই জামায়াত, জামায়াত মানেই বিএনপি। এ অবস্থায় কামাল হোসেন সাহেব জেনে শুনে কেন এত বড় ভুল করলেন? এ ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে।
এসময় অনান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ প্রমুখ।