বাগেরহাটের দুই উপজেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, নিহত ১

বাগেরহাটের দুই উপজেলা শুক্রবার ও শনিবার বিকালে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক গাছ চাপায় একজন নিহতসহ ঘর-বাড়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক ব্যক্তি।

শনিবার বিকালে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী তাণ্ডবে জেলা শহরের দড়াটানা নদীতে একটি শামুক বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে আলম হাওলাদার, হাফেজ মাতুবার, কালু হাওলাদার, জাফর, ওমর আলী, বাইজিত মাতুবার, আসাদুল হকসহ সাত শ্রমিক নদীতে পড়ে যান। পরে সাতরে তারা তীরে আসতে স্বক্ষম হন।

ট্রলার মালিক মিজান বিশ্বাস জানান, চরদায়োনী থেকে শামুক নিয়ে চারদিন আগে বাগেরহাট সদরে আসেন। শনিবার বিকালে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পরে নদীতে থাকা তার ট্রলারটি উল্টে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা মাঝিসহ সাত শ্রমিক সাতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষাপান। এ ঘটনায় প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া শুক্রবার রাতে কালবৈশাখীর ঝড়ে জেলার ফকিরহাট উপজেলার খুলনা- মাংলা মহাসড়কর খাজুরা নামক স্থানে গাছ চাপায় অরুন দাস (৩৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুজন। নিহত অরুন খুলনা শহরের ধর্মসভা ক্রোসরোডের যাগেশ দাসের ছেলে।

ফকিরহাটর কাটাখালী হাইওয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে একটি মাহিন্দ্রা যাগে খুলনায় যাচ্ছিলেন অরুন দাস ও তার বড় ভাই অশোক দাস (৫২)। পথে ঝড়-বৃষ্টির মধ্য খুলনা- মাংলা মহাসড়কের ফকিরহাটর খাজুরা এলাকায় তাদের বহনকারী মাহিদ্রা গাড়ির উপর একটি বাবলা গাছ ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলে অরুন দাসের মত্যু হয়। আহত হয় নিহতের বড় ভাই অশোক দাস ও মাহিদ্রা চালক। তাদের উদ্ধার করে রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে, জেলার চিতলমারী উপজেলায় শুক্রবার বিকালে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডকে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার গরীবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫৩নং গরীবপুর চরবানিয়ারী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ী ও গাছপালা লণ্ডভণ্ড হয়েছে। ২৫টি বৈদুতিক খুটি ভেঙ্গে বিছিন্ন হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইনসহ ডিস লাইন। এসময় শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন ক্লিনিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, ২৫ মিনিটের এ ঝড়ে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নর কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি-ক্ষতি হয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু সাঈদ জানান, ঝড়ের পর গরীবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।