বাগেরহাটে আ.লীগ নেতা নিহত: চেয়ারম্যানসহ আটক ৪

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজন নিহতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স করা অস্ত্রসহ তিনটি দেশি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার রাতে পুলিশের একাধিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে আটক করে। তবে থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

এর আগে সোমবার বিকালে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদে নিহত হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী ও কর্মী শুকুর শেখ। আহত হন দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন তাঁতীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবলু শেখ। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ফকির শহীদুল ইসলাম, মো. আবুয়াল হোসেন ফকির, আবুল শেখ এবং জুলহাস ডাকুয়াকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে মো. আবুয়াল হোসেন ফকির, আবুল শেখ দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সদস্য।
এ সময় উদ্ধার করা হয় একটি দেশি রিভলবার, একটি বিদেশি শর্টগান, একটি দেশি তৈরি ওয়ান স্যুটারগান, একটি কুড়াল এবং তিনটি গুলি। এর মধ্যে শর্টগানটি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের লাইসেন্স করা।

আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী দিহিদারসহ দুজন হত্যার ঘটনার পর দৈবজ্ঞহাটি বাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দৈবজ্ঞহাটি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এদিকে আজ দুপুরে নিহত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী দিহিদারের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দলীয় কর্মী শুকুর শেখের ময়না তদন্ত বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শুকুর শেখের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপ ছাড়াও পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ময়না তদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড।

আর গুরুতর আহত বাবলু শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. মশিউর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড নিহত শুকুর শেখের ময়না তদন্ত করে। নিহতের পিঠে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে তিনটি পিঠ থেকে ঢুকে সামনের পেট দিয়ে বের হয়েছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন রয়েছে।

নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সোমবার বিকেলে হামলাকারীরা প্রথমে শুকর শেখ ও বাবলু শেখকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদারের বাড়িতে যেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ঘরের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে অস্ত্রের মুখে টেনে হিঁচড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আনছারের স্ত্রী তাতে বাধা দেন। এ সময় তারা তাকে লোহার রড দিয়ে দুপা ভেঙে আনছার আলীকে তুলে নিয়ে যায়। তার বাড়িঘর ভাংচুর করে। চেয়ারম্যান ফকির শহীদুল তার পরিষদে নিয়ে বোরকা পরিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে সবাইকে গুরুতর জখম করেন। পরে দুজন মারা যায়।

হামলায় আহত দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন তাঁতীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবলু শেখ সোমবার সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, ‘দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ফকিরের সাথে স্থানীয়ভাবে আমাদের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে সোমবার বিকেলে চেয়ারম্যানের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা বাজার থেকে আমাদের জোর করে ইউনিয়ন পরিষদে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাদের সবাইকে বোরকা পরায়। পরে আমাদের সবাইকে পরিষদ থেকে বাইরে নিয়ে এসে চেয়ারম্যান শহীদুল চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘আমরা তাকে হত্যা করতে এসেছি’। এ সময় তার ক্যাডার বাহিনী ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চেয়ারম্যান ও তার তিন সহযোগিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি অস্ত্র ও তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনার পর ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হতাহতের ঘটনায় থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।