বাহারী নামের পোশাকে মজেছে তরুণ-তরুণীরা

রঞ্জু আহমদ :: জমে উঠতে শুরু করেছে নগরীর ঈদ বাজার। ক্রেতা সমাগমে মার্কেটগুলো তাই জমজমাট। রাত ১১ টা পর্যন্তও দোকান খোলা রাখছে। খুশির ঝিলিক বিক্রেতাদের চেহারায়। ভিড় ও চড়া দাম এড়াতে আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে ফেলতে চাইছেন অনেকে। এবার গাউন, ঢালী, গোবিন্দ, সিমুজি, গারারা ও টপস নারীদের প্রধান পছন্দের পোশাক। বাহারী নামের পোশাকই পছন্দ তরুণ-তরুণীদের। শুরুতেই ঈদের বাজার অনেকটা চড়া বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, আকর্ষণীয় পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে প্রতিটি দোকানেই। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সব কটি বিপণি কেন্দ্র। লোকসমাগমও বেশ ভালো। এখনো পুরোদমে কেনাকাটা শুরু না হলেও ক্রেতারা মার্কেট ঘুরে ঘুরে দেখছেন। দাম সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। পছন্দমাফিক পোশাক পেয়ে গেলে কিনেও ফেলছেন কেউ কেউ। তবে কেনাকাটার পরিমাণ কিছুটা কমই বলা যায়। দোকানিরা জানালেন, ঈদবাজার এরই মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠছে, তারা আশা করছেন, ভিড় এড়াতে মার্কেটে আসা মানুষের এই দেখাদেখি বেশিদিন চলবে না। ১৫ রোজার পর থেকে মার্কেট পুরোদমে চালু হওয়ার আশা করছেন তারা।

নগরীর নিউ মার্কেটের একটি দোকানের সত্ত্বাধিকারী মো. রাসেল জানান, এবারের ঈদে গারারা, সারারা, প্লাজো, গাউন পোশাকের চাহিদা বেশি। প্রতিটি গারারা ড্রেস সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা, গাউন ২০ হাজার টাকা, প্লাজো ১০ হাজার টাকা, সারারা ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরীর এ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে তরুণীরা এই চারটি ডিজাইনের ড্রেস কিনছেন বেশি।

ব্যবসায়ী তনয়া আসমত আরা জানান, এবারের ঈদ কালেকশনের সবগুলোই ডিজাইন নজর কাড়া। কোনটা রেখে কোনটা নেবো এ নিয়ে দ্বিধায় আছি। অবশেষে আমি সারারা ডিজাইনের ড্রেসটি ৯ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি।

শাড়ির দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়সী নারীরা তাদের পছন্দের শাড়ী ক্রয় করছেন। এবারের ঈদে শিফন, কাতান, বেনারসি, কানছিকুমার শাড়ীর চাহিদা বেশি। কাঁকন এর সত্ত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন জানান, একটি শিফন শাড়ি সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা, কাতান শাড়ি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা, কানছিকুমার শাড়ী সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা, বেনারসি ৩০ হাজার টাকা, শামুক সিল্ক ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর খানজাহান আলী মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, শেরে বাংলা মার্কেট ও ভাষানী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এবার মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে গাউন, ঢালী, গোবিন্দ, সিমুজি ও টপস। বাহারী এসব পোশাকে দোকান সাজানো হয়েছে।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির মার্কেট হিসেবে পরিচিত নিউ মার্কেটের দোকানগুলোতেও ভিড় বাড়ছে। এ মার্কেটে মধ্যবয়সী নারী ও বয়স্কদের জন্য নানা শাড়ির সমাহার ঘটেছে।

ঈদের পোশাক কিনতে আসা নাজমিন সুরাইয়া জানান, ঈদ এগিয়ে আসলে কাপড়ের দাম বেশী থাকে। তাই এবার আগে ভাগেই কিনতে এসেছি। তার প্রথম পছন্দ স্যালোয়ার কামিজ।

মোঃ বেল্লাল হোসেন নামে এক দোকানদার বলেন, এখনও মার্কেট পুরোপুরি জমে ওঠেনি। কয়েকদিন পর থেকে ক্রেতারা আর দম ফেলারও সময় দেবে না। তবে বিকিকিনি ভাল হওয়ার আশা করছেন তিনি।