বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম আর নেই

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম আর নেই। রোববার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থানয় মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসেন প্রেস উইংয়য়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১৩ অক্টোবর তরিকুল ইসলামকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এরআগে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। শরীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

তিনি জানান,বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। গত কয়েক বছরে একাধিকবার তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের চার বার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক এই ব্যক্তিত্ব যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক লোকসমাজ’ পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।

১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন তরিকুল ইসলাম। পিতা মৃত আলহাজ্জ্ব আব্দুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা মৃত মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

তরিকুল ইসলাম দুই পুত্র সন্তানের জনক।

তরিকুল যশোর সরকারি সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের উপাধ্যাক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তরিকুল ইসলাম পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় বাল্যশিক্ষা শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। একটানা আট বৎসর শিক্ষাগ্রহণের পর ১৯৬১ সালে তিনি এই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৬৩ সালে তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আই এ এবং ১৯৬৮ সালে একই কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি এ (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন।