বিদায় ব্রাজিল, সেমিতে বেলজিয়াম

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে রাশিয়ার বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে উঠেছে বেলজিয়াম। সেমি ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। শুক্রবার কাজানে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে এবারের আসরের ‘ডার্ক হর্স’ বেলজিয়াম। প্রথম গোলটি ছিল আত্মঘাতী। দ্বিতীয় গোল করেন কেভিন ডি ব্রুইন। আর ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন রেনাতো অগাস্তো।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকে ভাগ্য বিরূপ ছিল ব্রাজিলের। ম্যাচের ৭ মিনিটে নেইমারের করা কর্নার থেকে থিয়াগো সিলভার হেড গিয়ে লাগে বেলজিয়ামের গোল বারে। বিপরীতে দুরন্ত বেলজিয়াম নিজেদের প্রথম কর্নার কিকেই গোল তুলে নেয়। ম্যাচের ১৩ মিনিটে গোলটি অবশ্য হয় আত্মঘাতীতে। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফার্নান্দিনহোর গায়ে লেগে। মার্সেলোর পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসাবে আত্মঘাতী গোল দিলেন তিনি।

১-০তে পিছিয়ে পড়ে পাল্টা আক্রমণে যেতে থাকে ব্রাজিলও। কিন্তু বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় নেইমার, জেসুস, কুতিনহোরা। বিপরীতে ম্যাচের ৩১ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল দিয়ে বসেন কেভিন ডি ব্রুইন। এর মধ্য দিয়ে এবারের আসরের শততম ফুটবলার হিসাবে গোল করলেন তিনি। তারপর আরো বেশ কয়েকটি আক্রমণে যায় দুই দলই। কিন্তু গোল পায়নি কেউই। ফলে ২-০ গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে বেলজিয়াম।

দ্বিতীয়ার্ধের ফিরে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন ব্রাজিল। কিন্তু বেলজিয়ামের রক্ষণের সামনে সবই ব্যর্থ হয়ে যায়। অবশেষে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে সাফল্য পায় ব্রাজিলিয়ানদের একটি আক্রমণ। বদলি নামা অগাস্তোর হেড থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি পায় ব্রাজিল।

বিশ্বকাপে একবারই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ জিতেছিল ব্রাজিল। সেটা ১৯৩৮ সালের ঘটনা। ওই বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জিতেছিল ব্রাজিল। এবারের বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে যেতে হলে ৮০ বছর আগের সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারলেন না নেইমাররা।

ব্রাজিলের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার বিশ্বকাপে আর কোন লাতিন দল থাকলো না। নিশ্চিতভাবেই এবারের বিশ্বকাপও যাচ্ছে ইউরোপের কোন দেশে। সর্বশেষ ২০০২ এর বিশ্বকাপ গিয়েছিল লাতিন দেশ ব্রাজিলের ঘরে।