বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ৮ জনের

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাদাই গ্রামের একটি মাদ্রাসা মাঠে টিনের টং দোকান ঘর অন্যত্র সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১ জন। নিহতরা হচ্ছে- কাদাই গ্রামের আব্দুল মমিন, রফিকুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন, সজীব, আব্দুল্লাহ, রাজু, হাবিব ও দোকান মালিক আব্দুস ছাত্তার। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছে। স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।

দোকান মালিক নিহত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুল বাতেন জানান, স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জমে থাকা পানিতে নিমজ্জিত ছিল টিনের টং (মুদি) দোকান ঘরটি।

বাবাসহ ৯ জন সেটি অন্যত্র সরানোর জন্য উঁচু করে তুুলে ধরেন। এসময় উপর দিয়ে টাঙ্গানো পিডিবি’র (আবাসিক সংযোগ) বিদ্যুতের তারের সঙ্গে লেগে ঘরটি বিদ্যুতায়িত হয়। এতে ঘরটি সরানোর কাজে নিয়োজিতরা সবাই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, ৬ জনকে মৃত অবস্থায় সদর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বাকি ২ জন শহরের একটি ক্লিনিকে মারা গেছে। আহত একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মধ্যে ৪ জন তাঁত শ্রমিক, একজন ব্যবসায়ী ও ৩ জন ছাত্র রয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদসহ বিভিন্ন লোকজন হাসপাতালে ছুটে যান।

সেখানে শ’ শ’ উৎসুক মানুষও ভিড় করেন। এসময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিকেলে স্বজনদের লাশ নিজ নিজ বাড়ি নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার আবু রায়হান স্বজনদের পাশে থেকে সান্ত্বনা দেন। এ সংবাদ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা নিহতদের পরিবার প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না দেশের বাইরে অবস্থান করলেও ঘটনার সংবাদ পেয়ে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং পরিবারের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার টাঙ্গানোয় বিদ্যুৎ অফিসের কোন গাফিলতি আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এছাড়াও মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।