বিনামূল্যে বাড়ি পাচ্ছে পৌনে তিন লাখ মানুষ

গৃহহীন দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষকে ঘর করে দেয়ার প্রকল্প পাস হয়েছে বলে তৃণমূলের নেতাদেরকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানান, সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়, সেটিও বেড়েছে। এই বরাদ্দ যেন সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছে সেদিকে নজরদারি করতে হবে। শনিবার গণভবনে রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরকে বর্ধিত সভায় ডাকেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরার নির্দেশের পাশাপাশি এই তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি এখনও প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজারের মতো গৃহহারা আছে। তাদের ঘর করে দেয়ার জন্য প্রজেক্ট পাস করে দিয়েছি।’

‘একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না। জাতির পিতা গুচ্ছগ্রাম শুরু করেছিলেন। নোয়াখালীর চরে প্রথম গুচ্ছগ্রাম উদ্বোধন করে দিয়ে যান। আমরা তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম, গৃহায়ন তহবিল করে যাদের ভিটেমাটি আছে তাদেরকে ঘরবাড়ি করে দেয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

‘হ্যাঁ, গরিবানা ভাবে দিচ্ছি। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীকে বলছি, বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকুক, এটা আমরা চাই না। যাদের জমি আছে, ঘর করতে পারে না, তাদের আর্থিক সহায়তা আমরা দিচ্ছি। কিন্তু সেই সহায়তাটা যেন সঠিক মানুষের কাছে যায়, তারা যেন ঘর করতে পারে।’

‘তাছাড়া এনজিওদেরকে আমরা গৃহায়ণ তহবিলের টাকা দেই দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জের শর্তে। তারা একটা স্যানিটারি লেট্রিন করে দেবে, এই শর্তে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর সামাজিক সুরক্ষার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন সেগুলোর আওতা এবারের বাজেটে আরও বাড়ানো হয়েছে।

বয়স্ক ভাতা ৩৫ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ; বিধবা, স্বামী, পরিত্যক্ত, দুঃস্থ মহিলা ভাতা ১২ লক্ষ থেকে ১৪ লক্ষ, প্রতিবন্ধী ভাতা আট লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ, প্রতিবন্ধী ছাত্র ছাত্রীর বৃত্তি ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার, বেদে, হিজরা ও অনগ্রসর এলাকার ভাতা ৩৬ হাজার থেকে ৬৪ হাজারে উন্নীত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আগে ৩০ হাজার চা শ্রমিককে ভাতা দেয়া হলেও এখন থেকে তা দেয়া হবে ৪০ হাজার জনকে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উৎসব ও বাংলা নববর্ষের ভাতা, বিজয় দিবসে বিশেষ উপহার দেয়া হয়েছে।

এসব ভাতা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও জনপ্রতিনিধিদেরকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এই যে ভাতাগুলো দিচ্ছি, এটা তো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই দিতে হয়। এটার জন্য একটা ডাকাবেজ করতে যাচ্ছি। একজন যেন দুই রকম না পায়।’

স্থানীয় উন্নয়নে যেন যথাযথভাবে কাজ হয়, সেটি তদারকির নির্দেশও দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘প্রতিটি টাকা যথাযথভাবে কার্যক্রম করে যার যার এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন, এটাই আমরা চাই।’

সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের দ্বন্দ্ব নিরসন, যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করতে দলীয় নেতাদেরকে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ প্রধান। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা আটজন নেতা বক্তব্য রাখেন।