বিশ্বকাপের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় নেই মেসি-নেইমার!

একটি বিশ্বকাপ শেষে সেই আসরের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় লিওনেল মেসি-নেইমারদের নাম না দেখলে একটু অস্বস্তি লাগতেই পারে। কিন্তু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের ১০ এর তালিকা করতে গেলে তাদের নাম আসছে না যে! ওয়ার্ল্ড সকার এমনই একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যেখানে ১৯ বছরের কিলিয়ান এমবাপে দিচ্ছেন নেতৃত্ব। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আছেন। রুশ বিস্ময় দেনিস চেরিশেভও আছেন। নেই মেসি-নেইমার। এই তালিকা করতে গিয়ে সেরা দশ দল আগে বেছে নিয়ে প্রত্যেক দল থেকে মাত্র একজন করে খেলোয়াড় নির্বাচনের শর্ত মানা হয়েছে।

কিলিয়ান এমবাপে – ফ্রান্স

এই শীর্ষ দশে আসলে ফ্রান্সের কয়েকজন খেলোয়াড়ই থাকতে পারেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের আঁতোয়া গ্রিজমান, এ’গলো কান্তে ও রাফায়েল ভারানেকে বাদ দেওয়া মুশকিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত বেছে নিতে হয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপেকে। গতি, নৈপুণ্য, ভয়ডরহীন খেলায় যে ছেলে অনন্য ছিলেন রাশিয়ায়। মাত্র ১৯ বছর বয়স। সময়টা তার সামনে পড়েই আছে।

লুকা মদ্রিচ – ক্রোয়েশিয়া

জিতেছেন গোল্ডেন বল। ফাইনালে বুক ভেঙেছে ক্রোয়াট রূপকথার সফল সমাপ্তি টানতে পারেননি বলে। তর্কসাপেক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে আবির্ভূত ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজে খেলেছেন, খেলিয়েছেন গোটা দলকে। এই দলের ইভান রাকিতিচ ও পেরিসিচও তালিকায় আসতে পারতেন। কিন্তু একজন নিতে গেলে সবার চেয়ে মানে সামনে রাখতে হয় মদ্রিচকে।

কেভিন ডি ব্রুইন – বেলজিয়াম

ম্যানচেস্টার সিটির এই খেলোয়াড় রাশিয়ায় দেখিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বলা হয়। তার নিখুত পাস রোমেলু লুকাকু এবং ইডেন হ্যাজার্ডকে ধ্বংসাত্মক করে তুলেছিল যথারীতি। এছাড়া ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে নিজের নিশানা ভেদের দক্ষতারও প্রমাণ রেখেছেন দারুণভাবে।

কিয়েরান ট্রিপেয়ার – ইংল্যান্ড

হ্যারি কেন গোল্ডেন বুট জিতেছেন বটে কিন্তু সবাই প্রত্যাশা করেছিল, এমন ভালোটাই খেলবেন ওই স্ট্রাইকার। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে ট্রিপেয়ার এর কথা কে ভেবেছিল? অথচ এই লেফট ব্যাক বিশ্বের অন্যতম সেরা রক্ষণসৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রাশিয়ায়। বিশেষ করে সেট-পিসে তো অনন্য ছিলেন। সম্ভবত পুরো টুর্নামেন্টেই ইংল্যান্ডের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।

ফিলিপে কুতিনহো – ব্রাজিল

বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবাই ভাবছিল নেইমারের কথা। শুরু হলে সবাই দেখছিল নেইমার কি করেন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন কুতিনহো। শুরু থেকে গোল করেছেন, প্রয়োজনে লক্ষ্যভেদ। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তার গোলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।

ইয়েরি মিনা – কলম্বিয়া

হামেস রদ্রিগেজ ছিলেন ইনজুরিতে। গেল বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতা হামেস পারলেন না নিজেকে এখানে প্রমাণ করতে। অভিজ্ঞ রাদামেল ফ্যালকাও আলো জ্বালতে ব্যর্থ। তাদের ব্যর্থতার মাঝে সেন্টার ব্যাক মিনা নিচের থেকে উপরে উঠে আসলেন। তিনটি গোল করে কলম্বিয়াকে নিয়ে গেলেন শেষ ষোলতে।

দিয়েগো গোদিন – উরুগুয়ে

উরুগুইয়ান ডিফেন্সের মহাপ্রাচীর ছিলেন গোদিন। দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যেতে তার ভূমিকা ছিল দেখার মতো। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ওখানে হারতে হলো বলে থামলো গোদিনের জাদু। কিন্তু এই মুহূর্তে সম্ভবত বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার গোদিনই।

দেনিস চেরিশেভ – রাশিয়া

স্বাগতিক রাশিয়াকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রথম রাউন্ড পেরুতেই দেখেনি কেউ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই বদলি হিসেবে জাতীয় হিরো বনে গেলেন স্ট্রাইকার চেরিশেভ। দল গেল কোয়ার্টার ফাইনালে এবং তাতে চেরিশেভের কথা উল্লেখ করতে হবে আগে। চারটি গোল করেছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তো অবিশ্বাস্য এক গোল করেছিলেন।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো – পর্তুগাল

শেষ ষোলতেই শেষ পর্তুগালের যাত্রা। উরুগুয়ের কাছে হেরে। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকে এই আসরের অসাধারণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছিলেন রোনালদো। ৩-২ গোলে পিছিয়ে দল। খেলা শেষের পথে। হারছে পর্তুগাল। কিন্তু বক্সের কাছে রোনালদো শেষে ফাউলের শিকার। এবং ফ্রিকিক থেকে দেখার মতো একটা গোল করে দেশের হার বাঁচালেন, হ্যাটট্রিকও হলো। মরক্কোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও ছিল তার।

আন্দ্রিয়াস গ্রাঙ্কভিস্ট – সুইডেন

সুইডেন দলের নেতা মানতে হবে গ্রাঙ্কভিস্টকে। গ্রুপের শীর্ষ দল হতে এবং দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যেতে কি খেলাটাই না খেললেন ৩৩ বছরের ডিফেন্ডার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ আটে হারতো হলো। প্রথম ম্যাচে জয় নির্ধারক পেনাল্টিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছিলেন গ্রাঙ্কভিস্ট। মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আরেকটি গোল তার। ডিফেন্সিভ কাজেও দলের অতুলনীয় খেলোয়াড় ছিলেন। ৫ ম্যাচের তিনটিতেই ক্লিন শিট পেয়েছিল সুইডেন।