বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন মিরাজের

সকালে ইউনিসেফের শিশুদের নিয়ে আইসিসি ২০১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচনের সময় নিজের আশার কথা জানিয়ে গেলেন বিসিবির নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তার বিশ্বাস এই ট্রফি একদিন বাংলাদেশের ঘরেও আসবে। দুপুরে ট্রফির সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের হয়ে মিরাজও জানিয়ে গেলেন তার স্বপ্ন একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার।

২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের আসর। তার আগে গেল আগষ্ট থেকে বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়েছে ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক- সোনালী ট্রফিটি। যার অংশ হিসেবে বুধবার ট্রফি এসেছে বাংলাদেশে। এদিন সকালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়া মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর হাত দিয়ে ট্রফি উন্মোচন হয়।

এরপর আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানালেন নান্নু। তিনি বলেন,‘এই বিশ্বকাপ ট্রফি আশা করি আমাদের ঘরে আসবে। এখন আমরা যে প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছি সামনের বিশ্বকাপে ভালো ফল হবে আশা করি। ‘বিশ্বকাপ’ শব্দটাই অন্য রকম। এটা সব সময়ই উজ্জীবিত করে তরুণ খেলোয়াড়দের। আমার বিশ্বাস আগামী বিশ্বকাপে আমরা ভালো করব।’

প্রথম ঝলকেই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ফটো সেশন করেন নান্নু। এরপর সবার সঙ্গে সূর মেলান ‘আমরা করবো জয় এদিন’ গানে। তাদের ফটোসেশন শেষ হওয়ার ঘন্টা দুয়েক পর শুরু হয় টাইগারদের ফোটো সেশন। যদিও ফটোসেশনে ছিলেন না দলের মূল আকর্ষণ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান।

ফটোসেশন শেষে গনমাধ্যমের মুখোমুখি হন তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম বার বিশ্বকাপের মত বড় একটা ইভেন্টের সামনে তিনি। বাকিদের থেকে তার অভিজ্ঞতাটা কম হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ারই স্বপ্ন দেখেন। তার বিশ্বাস দল ভালো করলে, আর ভাগ্য সহায় হলে বাংলাদেশও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। তবে বিশ্বজয়ের জন্য পারফর্মটাকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন এই উঠতি তারকা।

মিরাজ বলেন,‘বিশ্বকাপ একটা অনেক বড় মঞ্চ। এটা সবার জন্যই অনেক বড় পাওয়া। সবারই স্বপ্ন বিশ্বচ্যাম্পিন হওয়ার। আমাদেরও একই স্বপ্ন। আর আশা করি সবাই যেভাবে পরিশ্রম করছে, সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে তাহলে ভালো কিছুই হবে।’

বিশ্বকাপের বাকি আর কয়েক মাস। মিরাজও স্বপ্ন দেখছেন বিশ্বকাপ খেলার। প্রথমবার এমন একটা বড় ইভেন্টে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটাই দেওয়ার ইচ্ছে ২০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের।

‘সবার তো স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলার। যদি টিমে থাকি, সুস্থ থাকি তাহলে অবশ্যই ভালো করার চেষ্টা থাকবে। আশা করি ভালো কিছু হবে। আর দলের কথা বললে সবাই ট্রফি জেতার জন্যই খেলবে। আশা করি, লাক ফেভার করলে আমাদের ভালো কিছুই  হবে।’

বেশ কয়েক বছর ধরে ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে আছে বাংলাদেশ। গেল চারবারের এশিয়া শ্রেষ্ঠাত্বের লড়াইয়ে তিনবারই ফাইনাল খেলেছে টাইগাররা। যদিও ফাইনালের ভাগ্য পরীক্ষায় কখনো জিততে পারেনি তারা। ফাইনাল না জেতায় ভাগ্য দুষছেন মিরাজও। কিন্তু তার বিশ্বাস ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।

মিরাজ বলেন,‘আসলে সবগুলো ফাইনালে আমরা ছোট ছোট লাকের জন্য হেরে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলি। শেষ দুইটা এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছি। নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলেছি। কিন্তু ছোট ছোট ভাগ্যের কারণে হচ্ছে না ট্রফি জেতা। আমাদের লাক ফেভার করে না। কিন্তু আমি বলবো, হয়তো সামনে আমাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বড় কোনো মঞ্চে হয়তো আমাদের লাক ফেভার করবে।’

প্রতিবারের মত এবারও বাংলাদেশের টার্গেট ম্যাচ বাই ম্যাচ জিতে সামনের দিকে আগানো। যার জন্য পারফর্মটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন মিরাজ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আসলে আমরা যেভাবে খেলছি, এমন না যে জিততেই হবে। আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি এটাই মূল কথা। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন সবারই। কিন্তু সবার আগে পারফর্মটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের টার্গেট হলো ভালো পারফর্ম করা এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ জেতা। তারপর বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

প্রথমবার সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে দেখা। মনে স্বপ্ন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার। বিশ্বকাপের আগে আরো কয়েকটি সিরিজ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে ওই সিরিজ গুলোতেই এখন ভালো করার টার্গেট নিচ্ছেন মিরাজ।

‘এত বড় ইভেন্টে যারা চ্যাম্পিয়ন হবে এটা তাদের অনেক বড় একটা অর্জন। বাংলাদেশ জিতলে সবার জন্যও বড় অর্জন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভাগ্যের বিষয়। আশা করবো চ্যাম্পিয়ন হবার। সামনে অনেক খেলা। সেগুলাতে ভালো খেলেই আপাতত সামনে এগুতে চাচ্ছি।’