বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার ছাত্রলীগ নেত্রী এশা

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইসরাত জাহান এশা। মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে এশাকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি রাতেই নিশ্চিত করেছেন।

একই কারণে এশাকে দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও। গতকাল রাতেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এশাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেয়ায় মঙ্গলবার রাতে উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা আক্তারকে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে যান হলের সভাপতি ইফফাত জাহান। পরে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মোর্শেদার পা ধারালো বস্তুর আঘাতে কেটে যায় বলে হলের অনেক সাধারণ ছাত্রী অভিযোগ করেন। এছাড়া অপর একজনের মাথায় সেলাই দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

ঘটনার পরই কয়েকশ ছাত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি এশাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে অন্যান্য হল থেকেও শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে আসেন।

এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে যান ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি। পরে আহত মোর্শেদাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার পর তার এক স্বজনের কাছে তুলে দেন প্রক্টর।

পরে রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাবি উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানও। তিনি বলেন, একজন ছাত্রীর ওপর আরেকজন ছাত্রী যে নির্মম আচরণ করেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এজন্য তাকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আগামীকাল ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।