বেনাপোল বন্দর দিয়ে মোটর পার্টস আমদানি বন্ধ

যশোরাঞ্চলের কয়েক শ মোটর পার্টস আমদানিকারকের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন)  বন্ধ করে দেয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে মোটর পার্টস আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।ভ্যাট বকেয়া থাকার অভিযোগে যশোর কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট ডিভিশন এসব আমদানিকারকের বিআইএন লক করে দেয়।

তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, তারা প্রচলিত নিয়মে ভ্যাটসহ রিটার্ন করেছেন। কিন্তু বাড়তি ভ্যাটের কথা তারা জানতেন না।

ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক আমদানিকারকের পণ্য এরই মধ্যে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে চলে এসেছে। অনেকের পণ্য আবার বেনাপোল বন্দরের গুদামে পড়ে রয়েছে। কিন্তু বিআইএন লক থাকার কারণে তারা এসব পণ্য ছাড় করাতে পারছেন না। একই কারণে নতুন করে এলসিও খুলছে না কেউ। ফলে চলতি মাসের শুরু থেকে সব ধরনের মোটর পার্টস আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, দেশে মোটর পার্টসের অন্যতম বড় মোকাম যশোর। এখানকার কয়েক শ আমদানিকারক বেনাপোল বন্দর দিয়ে মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারের পার্টস এবং বাস-ট্রাকের রিকন্ডিশন্ড ইঞ্জিন ও পার্টস আমদানি করেন। সারা দেশে মোটরসাইকেল পার্টসের মোট চাহিদার পুরোটাই যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। রিকন্ডিশন্ড মোটর পার্টসের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের পর যশোরের মোকামই সবচেয়ে বড়।

যশোর মোটর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির যশোর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সবুজ বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী ৪ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে তাদের রিটার্ন দাখিল করার কথা। কিন্তু কাস্টমসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তাদের অবগত করা হয়নি। মাসখানেক আগে যশোরের আমদানিকারকরা বেনাপোলে তাদের পণ্য ছাড় করাতে গিয়ে বিআইএন লক দেখতে পান। তখন কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সাইজ কমিশনারেট যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাদের জানানো হয়, আগের বছরগুলোর রিটার্ন দাখিল করে বিআইএন সচল করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।

সমিতির পক্ষ থেকে ভ্যাট কমিশনারেট যশোর অঞ্চলের কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যার যা বকেয়া পড়েছে, তার চার ভাগের এক ভাগ দিয়ে বিআইএন আবার সচল করা যাবে। বাকি টাকা পরে দিতে হবে।
সমিতির সভাপতি শাহিনুর হোসেন ঠান্ডু অভিযোগ করেন, বগুড়ায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুরনো ভ্যাট নেয়া হচ্ছে না। ঢাকায় প্রতিটি বিল অব এন্ট্রিতে ১০-১৫ হাজার টাকা নিয়ে তাদের বিআইএন চালু করে দেয়া হচ্ছে। অথচ যশোরে সে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

যশোরের মোটর পার্টস আমদানিকারকদের সবাই বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করেন এবং এ খাত থেকে সরকার বছরে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব পায় বলে জানান শাহিনুর। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আগের ভ্যাটের জন্য যে টাকা চাওয়া হচ্ছে, তা পরিশোধ করতে গেলে তারা সবাই পথে বসে যাবে। আমরা পণ্য আমদানির সময় শুল্কের পাশাপাশি ৪ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছি। প্যাকেজ ভ্যাটও দিয়েছি। নতুন করে এখন আরও ৪ শতাংশ ভ্যাট দাবি করা হচ্ছে।