বেশি পানি পান করলে কী হয়?

সুস্থ থাকার জন্য পর‌্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই। খাবার না কেউ মানুষ কয়েকদিন বাঁচতে পারে কিন্তু পানি ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব। নিয়মিত প্রচুর পানি পান করা এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন। অনেকে যেমন পানি কম পান করেন আবার অনেকের মধ্যে বেশি পানি পানের প্রবণতাও লক্ষ করা যায়।

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না যে দেহের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। অধিক পানি পানেও রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এতে করে নানা শারীরিক সমস্যার উপসর্গ দেখা দেয়।

মাথা ব্যথা  অসুস্থতা:

অধিক পানি পান করার ফলে দেহের কোষগুলো ফুলে ওঠে এবং বড় হয়। মস্তিষ্কের কোষগুলো একইভাবে ফুলে ওঠে। এতে করে মাথার খুলির উপর চাপ পড়ে মাথা ব্যথা দেখা দেয়। অন্যদিকে কিডনি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়। এতে করে কার্যক্রম ধীরগতিতে হয় এবং অসুস্থতা অনুভব করে শরীর।

কিডনির উপর প্রভাব: আমরা জানি যে, কিডনি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। বেশি পানি পান করার ফলে কিডনিকে অনবরত কার্যক্রমের মধ্যে থাকতে হয় যা এগুলো একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত কিডনি এক ঘণ্টায় এক লিটার পানি নিষ্কাশন করার ক্ষমতা রাখে। এর বেশি হলে কিডনিগুলোকে অধিক কাজ করতে হয়।

হৃদযন্ত্রের ক্ষতি: শরীর অতিরিক্ত হাইড্রেটেড হলে হৃদযন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে। রক্তের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর উপর বাড়তি চাপ পড়ে।

রক্তসঞ্চালনে প্রভাব: শরীর অতিরিক্ত পানি ধারণ ও প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়। শরীরের তরলের পরিমাণ বেশি হলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার উপর ধকল পড়তে পারে।

খনিজের অপচয়: অতিরিক্ত পানি পানে করার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। আর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বেরিয়ে যায়।