বয়সের ছাপ নারীদের আগে আসে কেন?

‘কুড়িতে বুড়ি’ কথাটিকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্যে অনেক কিছুই ব্যবহার করে মেয়েরা। নামি দামি প্রসাধনের প্রলেপ থেকে শুরু করে লেজার ট্রিটমেন্ট পর্যন্ত।

এবিষয়ে ইউরোপ- ইংল্যান্ডের একটি জরিপে দেখা গেছে,  সেখানকার নারীরা বয়সের ছাপ মোছার জন্যে বছরে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে! তাদের সব টাকাই যায় অ্যান্টি- এজিং ক্রিম আর  সিরামের পিছনে। তবুও যেন কোথাও একটা কমতি থেকে যায়। পুরুষের তুলনায় বয়সের ছাপ নারীর মধ্যেই আগে দেখা দেয়।

কেনো এই বয়সের ফাচ নারীর চেহারায় আগে ফুটে ওঠে  সেটা জানেন? পুরুষের তুলনায় নারীর চামড়ায় কোলাজেনের এর পরিমাণ কম থাকে। তাই তাদের চামড়া পাতলা হয় এবং বলি রেখা দেখা দেয় দ্রুত।

নারীর শারীরিক গঠন ও প্রকৃতি ছাড়াও বার্ধক্যের ছাপ আসার আরও একটি বিশেষ কারণ জানা গেছে এরাস্মাস মেডিক্যাল সেন্টারের একটি গবেষণায়।

নেদারল্যান্ডসের রটারড্যামের এই মেডিক্যাল  সেন্টারের গবেষণায় বলা হয়, নারীদের সৌন্দর্য ও চামড়ার প্রকৃতি নির্ভর করে তার খাবার এর অভ্যাস এর উপর।

পুরুষ কী খাবার গ্রহণ করছে সেটি তার অবয়বে না আসলেও নারীদের অবয়বে সেটি স্পষ্ট বোঝা যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

দুই হাজার সাতশ নারী পুরুষকে নিয়ে এই গবেষণা করেছে সেন্টারটি। আর এর ফল ‘অ্যামেরিকান একাডেমি অব ডারমেটলজি’ পত্রিকায় ছাপা হয়।

গবেষণায় ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টস যুক্ত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এগুলো  ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধিতে সহায়ক যা ভেতর থেকে ত্বককে  তারুণ্যোজ্জ্বল করে।

অর্থাৎ আর নয় নামি দামি ক্রিমে অর্থ অপচয়,  বয়সের ছাপ নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে খাবারের মেন্যুতে।

তারুণ্য বজায় রাখার বাড়তি কিছু টিপসঃ  

১. রোজকার খাবারের মেন্যুতে ফলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে দেখুন। অন্তত একটি আপেল রোজ খেয়ে দেখুন।  নিজের বুঝবেন আপনার স্কিনের পরিবর্তন।

২. মেন্যু থেকে রুটি, রেড মিট (খাসি-গরুর মাংস), চিনি  বর্জন করুন।

৩. সিগারেট ও এলকোহলকে ‘না’ বলুন। এগুলো শরীরের স্বাভাবিক আদ্রতা কমিয়ে দেয়।

৪. হালকা খিদেয় চা-বিস্কুটের বদলে ফল খান।

৫.পরিমিত ঘুম। কম বা বেশি কোনোটাই ভালো নয়। দুটিই বার্ধক্যের কারণ হতে পারে।

৬. সরাসরি রোদ থেকে চামড়াকে দূরে রাখুন। ঘরের বাইরে গেলে  সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।