ভেজালে সয়লাব খুলনার বাজার,ভোক্তারা অসহায়

সুবীর রায়:: কি কিনবেন, কি খাবেন সবকিছুই যেন ভেজালে ভরা। তারপরও সন্দেহ আর অবিশ্বাস নিয়ে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য কিনছেন এবং নিরুপায় হয়ে তা’ ভোগ করছেন। এক্ষেত্রে তারা অনেকটা অসহায়। ভেজাল ছাড়াও বাজারে রয়েছে নানা ধরনের প্রতারণা। একপণ্যের দাম নিয়ে আরেক পণ্য দিয়ে অধিক মুনাফা করা হচ্ছে। অতি মুনাফার আশায় পবিত্র রমজান মাসে এসব কিছু করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। পবিত্র রমজান মাসে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য বিভিন্ন টিম কাজ করলেও তেমন কোনো সাফল্য খুলনাতে দেখা যায়নি। যেটি দেখা গেছে ঢাকা চট্টগ্রামে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রমজান মাসে নগরীর বিভিন্ন বাজারে শপিং মলে ভেজাল ও প্রতারণার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বড়বাজারে বাজার করতে আসা শেখ আসলাম হোসেন বলেন, ইফতারের জন্য খেজুর কিনতে গিয়ে তিনি দেখেন গতবছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ খেজুর বিক্রি হচ্ছে। দোকানীরা বিভিন্ন ধরনের খেজুর সাজিয়ে রেখেছেন যার দাম একেক দোকানে একেক রকম। যেমন খুশী দাম হাকাচ্ছে তারা। বাজার মনিটরিংয়ে নেই কোনো তৎপরতা।
শুধু খেজুর নয়, ফল, চাল, ডাল, তেল, ব্যাসন, মাছ সবকিছুতেই চলছে ভেজালের কারবার।
ফল নানা ধরনের রাসায়নিক ক্যামিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে। ফলে আকর্ষণীয় রং ফুটে উঠছে, কিন্তু খেতে সুস্বাদু হচ্ছে না। বিশেষ করে আম ও কাঁঠাল রাসায়ানিক ইথোফেন ও কার্বাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে। এসকল রাসায়ানিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারপর অনেকেই জেনে শুনে বিষ পান করার মত আম কাঁঠাল খাচ্ছেন।
এদিকে বাজারে রয়েছে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ধরনের চাল। একই চাল মেশিনে কেটে একটু ছোট ও পালিশ করে অমুক মিনিকেট, তমুক মিনিকেট নাম দিয়ে ৬২ থেকে ৬৫টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া কালো জিরা ও চিনি আতপ চালের সাথে কম দামের চাল মেশিনে কেটে ছোট করে তা’ ৯০ থেকে ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আর সাধারণ ক্রেতারা বিশ্বাস করে প্রতারিত হচ্ছেন।
রমজান মাসে ডালের ব্যবহার বেড়ে যায় অনেক। আর এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ডাল নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। দেশী মসুরের ডাল ১১০ট্কাা কেজি দাম নিচ্ছেন। ক্রেতারা সে দাম দিয়ে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বাসায় গিয়ে দেখছেন দেশী ডালের মধ্যে কমদামের ও নিম্নমানের নেপালের ডাল মেশানো। শুধু এখানেই শেষ নয় হালিম খাওয়ার জন্য সোনা মুগ কিনতে গিয়েও প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ১৪০টাকা কেজির সোনা মুগ ডালের সাথে কমদামের সাধারণ মুগ ডাল মিশিয়ে তা’ ক্রেতাদের সরবরাহ করা হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের সাথে নিম্নমানের পামঅয়েল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ঘি কিনবেন সেখানেও ভেজাল। ঘির সাথে কৌশলে সয়াবিন তেল মেশানো হচ্ছে। ব্যাসন কিনতে গিয়েও প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। সাধারণত ছোলার ডালের ব্যাসন দিয়ে ইফতার সামগ্রী তৈরী করা হয়। বাজারের অধিকাংশ ব্যাসনে ছোলার ডালের সাথে নিম্নমানের খেসারীর ডাল মিশিয়ে তা’ অটোমিলে ভাঙ্গিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।
নগরীর সন্ধ্যা বাজারে বাজার করতে আসা এক গৃহিনী নার্গিস সুলতানা বলেন, সন্ধ্যা বাজারের মাছ বাজার থেকে পরপর দুই দিন ৩০০টাকা কেজি দরে রুই মাছ কিনে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। ফরমালিন মিশ্রিত মাছ দেখতে টাটকা হওয়ায় তা’ বিশ্বাস করে কিনে নিয়ে যান। পরে সেই মাছ বাসায় নিয়ে কুটতে গিয়ে দেখেন তা’ পচা। এভাবেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে ফরমালিন মিশ্রিত মাছ। আর প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আছেন সন্ধ্যা বাজারের মাছ কেটে দেয়া চাঁদনী থেকে বড় বড় মাছের রক্ত সংগ্রহ করে বরফ দেয়া পচা মাছের কানকোর মধ্যে লাগিয়ে দিয়ে তা’ টাটকা দেখিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিভিন্ন মিষ্টান্ন সামগ্রীতেও চলছে ভেজাল। সবমিলিয়ে ভেজালের মধ্যে থেকে প্রতিদিন দিন যাপন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভেজাল প্রতিরোধ সম্পর্কে খুলনা জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, তিনি প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করছেন। বাজারে ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করছেন। প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান বলেন, বাজার মিনটরিংয়ে জেলা প্রশাসনের তিনটি টিম কাজ করছে। কেউ যদি ভেজাল বা প্রতারণার আশ্রয় নেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।