ভোটের অপেক্ষায় খুলনা

তিন সপ্তাহের নির্ঘুম প্রচার শেষে এখন ভোটের অপেক্ষায় খুলনা নগরবাসী। আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিভাগীয় এই শহরের নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। সিটি করপোরেশন পরিচালনায় প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রস্তুত এলাকাবাসীও।

মঙ্গলবার সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছুটা অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির তেমন কোনো অভিযোগ নেই নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচন কমিশনও এখানে শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় খুলনা সিটির নির্বাচনকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। এজন্য নিজেদের প্রার্থীদের জেতাতে মরিয়া দলগুলো।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শফিকুর রহমান মুশফিক, হাতপাখা প্রথীকে ইসলামী আন্দোলনের মুজ্জাম্মিল হক এবং কাস্তে প্রতীকে সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু।

স্থানীয় এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় খুলনা নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। প্রচারণার শেষ দিন গতকাল রবিবার কাক ডাকা ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালায় প্রার্থীরা। নগরীর অলিগলিতে গিয়ে শেষবারের মতো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে হাত ধরে দোয়া চেয়েছেন তারা। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিসহ প্রচারণার কৌশল কোনোটাই তারা বাদ রাখেননি প্রার্থীরা। প্রার্থীদের সমর্থনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন নেতাকর্মী-সমর্থকরাও।

রবিবার রাতে মহানগরীর নতুন বাজার চর এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভার পর প্রচারণা শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছিলেন, জনগণ খুলনার উন্নয়ন চায়। গত ৫ বছর খুলনা সিটির মানুষ কোনও উন্নয়ন পায়নি। নাগরিকরা আর বঞ্চিত ও অবহেলিত থাকতে চান না। তাই তারা খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের প্রহর গুনছে।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। এছাড়া নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দেন তিনি।

উৎসবের এই ভোটে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে খুলনা মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান জানান, সোমবার থেকে ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারিক হাকিম) দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী আচরণবিধি মানা নিশ্চিত করতে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রবিবার থেকে তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, নির্বাচনে সাড়ে নয় হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটেলিয়ান ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, সাড়ে চার হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবে।’

আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র রয়েছে ২৫৪টি। আর ৩৫টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট কক্ষ রয়েছে এক হাজার ৫৬১টি। অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় তাদের এসব সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন।