মাগুরায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

যৌতুক ও পরকীয়ার জের ধরে  মাগুরার শালিখা উপজেলার গোবড়া গ্রামে গৃহবধূকে পিটিয়ে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছে নিহতের পিতা। মঙ্গলবার রাতে কনা মারপিটের এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার মুখে বিষ ঢেলে দেন স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওই রাতে ১টার দিকে মুমুর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত কনার পিতা মাগুরা শহরের ভায়নার বাসিন্দা ট্রাকচালক আসাদ শেখ অভিযোগ করেন, শালিখার গোবরা গ্রামের রশিদ মোল্যার ছেলে হুমায়ুন মোল্যার সাথে ছয় বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই হুমায়ুন ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য কনার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো।

অন্যদিকে প্রতিবেশী এক নারীর সাথে জামাই হুমায়ুনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। ওই নারী তার প্রবাসী স্বামীর টাকার গরমে জামাই হুমায়ুনকে কনার সাথে দুর্ব্যবহার করতে উৎসাহিত করত। দুই মাস আগে কনাকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে হুমায়ুন। সে সময় তাকে তিন দিন মাগুরা সদর হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেন তারা।

মেয়ের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে মেয়েকে মারপিটের এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা তাকে চিকিৎসা না দিয়ে বাড়িতে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মেয়েকে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থা খারাপ বলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় রাত ৪টার দিকে কনা মারা যায়।

এদিকে, স্বামী হুমায়ুন, তার বাবা রশিদ মোল্যা ও মা তাসলিমাকে কনার বাবর বাড়িতে আটক করে রেখেছে এলাকাবাসী। ফরিদপুর থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ মাগুরায় আসার পর ঘটনাস্থল শালিখা থানায় মামলা করা হবে।

শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে বুধবার বিকাল পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।