মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তালুকদার খালেক

বিএনপির ঢালাও মিথ্যাচারের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমি এ পর্যন্ত নয় বার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কখনো সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেইনি, প্রশাসনকে কোনো সন্ত্রাসীর বিষয়ে সুপারিশও করিনি। বরং কতিপয় বিএনপি নেতা যে অভিযোগ করছেন, তারাই চরমপন্থি-সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়দাতা। যার আয়ের কোনো উৎস নেই, তিনি কিভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন তা নগরবাসীর অজানা নয়।
আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার খালেক আরো বলেন, আওয়ামী লীগ অরাজকতা নয় বরং জনগণের রায়ে বিশ্বাসী। বিএনপি বরাবরই মনগড়া কিছু কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তারা সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন চান, আবার তালিকাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করলে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এটা নিত্যন্তই পরিহাস। তাই আগামী ১৫ মে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়দানকারী দল বিএনপিকে উপযুক্ত জবাব দিতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি গতকাল সকালে নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও একাধিক পথসভায় বক্তৃতাকালে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। সকাল ৮টায় তিনি নগরীর ফেরিঘাট জিন্নাহ মসজিদ থেকে শুরু করে ফারাজিপাড়া লেন, ফারাজিপাড়া মেইন রোড, শেরে বাংলা রোড, শেখপাড়া বাজারসহ ওয়ার্ডে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখেন এবং নির্বাচিত হলে অত্র এলাকা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
এ সময় মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাসদের মহানগর সভাপতি ও ১৪ দল নেতা রফিকুল হক খোকন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মল্লিক আবিদ হোসেন কবির, বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজ, ডা. কাজী হামিদ আজগর, নগর আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ কামাল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি চ.ম মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মীর মো. লিটন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বাদশা হাওলাদার, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদা বেগম, যুবলীগ নেতা শফিকুর রহমান পলাশ, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন, শেখ মোহাম্মদ আলী, রেজাউল করিম সবুজ, মোক্তার হোসেন, মিলকন হাসান রুমি, জনি বসু, প্রমুখ।
এর আগে তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় রূপসা ট্রাফিক মোড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি ডা. সুলতান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মিজানুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, আতিয়ার রহমান, মোশারফ হোসেন খান, জালাল আহমেদ, হিমু, বাদল প্রমুখ। বিকেলে তিনি নগরীর ২১নং ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন। অপরদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ওহিদুজ্জামান বলেছেন বিএনপির মেয়র শেখ তৈয়বুর রহমান ‘গ্রিন ও ক্লিন’ সিটি গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন কিন্তু ১৭ বছরেও তিনি ‘গ্রিন ও ক্লিন’ সিটি উপহার দিতে পারেননি। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে দুই বছর এবং বর্তমানে ৫ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে পারেননি। ‘গ্রিন ও ক্লিন’ সিটি’র কথা বলে ২৪ বছর নগরবাসীকে ধোঁকা দিয়েছে বিএনপি। এখন আবারো ‘গ্রিন ও ক্লিন’ সিটির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিএনপির প্রতারণা বিষয়টি বুঝতে পেরে নগরবাসী এবার নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধুনিক খুলনা গড়ার রূপকার তালুকদার আব্দুল খালেককে এবার মেয়র হিসেবে দেখতে চায় নগরবাসী। গতকাল দিনভর নগরীর ২২, ২৯, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব। বিএনপির আমলে বন্ধ করে দেয়া মিল-কল-কারখানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চালু করেছেন। কাজেই উন্নয়নের স্বার্থে তালুকদার আবদুল খালেকের বিকল্প নেই। গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এসএম মোজাফ্‌ফর রশিদী রেজা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি এসএম রুহুল আমিন বাপ্পী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল, আলী আকবার খাঁ, নজরুল ইসলাম সরদার, নূরুল ইসলাম, জেলা সভাপতি মো. সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ হোসেন, যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক, ওমর ফারুক, হাজী শিকদার ইব্রহিম, শুকুর আলী প্রমুখ।