মাশরাফি-সাকিব বেস্ট প্লেয়ার হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ

হাবিবুল বাশার সুমন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পেয়েছিল প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্বাদ। এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করছেন। নাটকে, বিজ্ঞাপনচিত্রে ও ছোট পর্দায় তাকে দেখা গেছে। সম্প্রতি সুমন স্টার লাইন গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ।

আপনি বাংলাদেশের সফল অধিনায়কদের একজন। এ অনুভূতি কেমন?

আসলে এটি আমার জন্য ভাগ্য ও গৌরবের ব্যাপার যে, বাংলাদেশ দলের হয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিতে পেরেছি। শুরুর দিকে আমরা হয়তো কয়েকটা ম্যাচ হেরেছি, পরবর্তীতে আমাদের অনেক সাফল্য রয়েছে। দলে ক্যাপটেন্সির পাশাপাশি প্লেয়ারিংটাও এনজয় করেছি। ক্রিকেট বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেটপাগল একটি দেশ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি। এটি আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের বিষয়ও বটে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমি বাংলাদেশ টিমে খেলতে পেরেছি।

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে আপনারও অভিষেক। এখন আমরা তাদের শক্ত প্রতিপক্ষ। এই পরিবর্তন কিভাবে দেখছেন?

তা সত্যিই আনন্দের যে, ভারতের বিপক্ষে আমার টেস্ট অভিষেক হয়েছে। ভারত ক্রিকেট পরাশক্তি। সে হিসেবে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার বলা যায়। আর প্রতিদ্বন্দ্বীর যে বিষয়টি বললেন, আসলে যখনই বাংলাদেশ দল যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলে, সেই দলই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। এখানে কেউ ছোট-বড় নেই। যার সঙ্গে আমরা খেলি না কেন জয়ের জন্যই খেলি। তা ভারত হোক কিংবা অন্য যেকোনো প্রতিপক্ষ। আলাদা করে বড় কোনো প্রতিপক্ষ নেই। আমরাই সবাইকে একচোখেই দেখি।

ব্যাট তুলে রেখে আপনি এখন নির্বাচক। খেলোয়াড়ি জীবনের কথা কতটা মনে পড়ে?

এটি চিরাচরিত একটি নিয়ম যে, সবাইকে একটা না একটা সময় স্থান ছেড়ে দিতে হবে। তবে আমি যতদিন খেলেছি, খেলাটা এনজয় করেছি। বাংলাদেশের হয়ে খেলাটাকে আমি সবসময় সম্মানিত মনে করেছি। তবে এটি সত্য যে, ক্রিকেট ছাড়ার সময় তো কষ্ট পেয়েছি। কষ্ট পেলেও কিছু করার নেই। সবাইকে একদিন না একদিন তো চলে যেতে হবেই। কিছুই করার নাই। এটাই বাস্তবতা।

মাশরাফি-মুশফিক-সাকিবদের পর দলনায়ক হিসেবে কাকে সম্ভাবনাময় মনে করছেন?

আসলে এর উত্তরটা কঠিন হয়ে গেল। তবে বাংলাদেশে প্রচুর সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার রয়েছে যারা আগামীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেবে। বর্তমানে মাশরাফি ইজ দ্য বেস্ট। তো সবাই যে মাশরাফি-সাকিব হবে এমন কোনো কথা নেই। কারণ মাশরাফি-সাকিব বেস্ট প্লেয়ার হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ ক্রিকেট। এদের মতো হতে হলে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তবে তারা তো আর আজীবন খেলতে পারবে না। নতুন কেউ না কেউ বেরিয়ে আসবে।

দলের বর্তমান অবস্থা কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বর্তমানে আমাদের দলে বিশ্বমানের কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছে। একটা সময় বাংলাদেশ মাঠে নামতো ভালো খেলার উদ্দেশ্যে। এখন মাঠে নামে জয়ের জন্য, সেটা যে দলই হোক না কেন? গত কয়েক বছর ধরে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। এখন সাকিব আছে। একে একে ক্রিকেটের পরাশক্তিগুলোকে হারিয়েছে। ক্রিকেটে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছি। ভবিষ্যতে যেন এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা যায় আমরা সবাই সে জন্যই কাজ করছি।

নির্বাচকের ভূমিকা কতটা উপভোগ্য?

নির্বাচনও ক্রিকেটের একটি বড় অংশ। ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পরও টিমের সঙ্গে সবসময় কাজ করতাম নিজ থেকেই। টিমকেন্দ্রিক সম্পর্ক সবসময় ছিল। প্লেয়ারদের উৎসাহ দেওয়া, তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা ও সমাধানের চেষ্টা করা এ কাজগুলো ক্রিকেটের অংশ। ক্রিকেটার হিসেবে এটি আমার জন্য অনেক ভাগ্যের ব্যাপার যে, এখনো ক্রিকেটের মধ্যে আছি।

ক্রিকেট নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

এখনো তো আমি সিলেকশন কমিটিতে আছি। যেহেতু আমি ক্রিকেটার, ক্রিকেটই আমার সব। সে হিসেবে ক্রিকেট নিয়ে আমার বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা প্রশাসনিক হোক কিংবা একাডেমিক লেভেলে হোক। ভবিষ্যতেও ক্রিকেট নিয়ে থাকব।

সম্প্রতি আপনি স্টার লাইনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাই।

আসলে এটিও একটি সামাজিক কাজ। ক্রিকেটের বাইরেও কিছু সামাজিক কাজ করা প্রয়োজন। আমি মনে করি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলে অনেক সামাজিক কাজ করা যায়। সামাজিক কাজের মধ্যেদিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। সার্ভিস দেওয়া যায়। স্টার লাইন শুধুমাত্র ভালো একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠানও বলা যায়। আমি এর আগেও স্টার লাইনের বাসে চড়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। এদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট দেখেছি। তো খেলাধুলা, বিনোদন, সামাজিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি। একজন ক্রিকেটারকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ করে খেলাধুলার প্রতি তারা প্রচুর আগ্রহ দেখিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় তারা ক্রীড়াপ্রেমী। সে হিসেবে তাদেরকে অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।