মিয়ানমারের ৫ সেনা কর্মকর্তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংস অভিযানের দায়ে অভিযুক্ত করে দেশটির পাঁচ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বার্মিজ সেনাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি ঘোষণা করে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিজ পেইন ওই পাঁচজনের নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন- অং কিয়াও জো, মং মং সোয়ে, অং অং, থান ওও এবং খিন মং সোয়ে।

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে তা উল্লিখিতদের নির্দেশেই হয়েছে বলে মনে করছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

তবে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর অভিযানের পর বিশ্ব নেতৃত্ব যখন মিয়ানমারের সমালোচনায় সোচ্চার হয়, তার পর উল্লেখিত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের ওই সেনা কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করবে অস্ট্রেলিয়া। সেইসঙ্গে দেশটি ভ্রমণেও যেতে পারবে না ওই পাঁচজন।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে পুলিশের কয়েকটি চেকপোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নৃশংস ওই অভিযানের শিকার হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করে। পরে সংস্থাটির স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাতেই বার্মিজ আর্মি তাদের ওপর ব্যাপক হত্যা ও গণধর্ষণ চালায়।

ঘটনার শুরু থেকেই নেইপিদো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, সন্ত্রাস দমনের অংশ হিসেবে তারা ওই অভিযান পরিচালনা করেছে।

পরবর্তীতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্ব নেতাদের চাপে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে চুক্তি বাস্তবায়নে দেশটির কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি।