মোস্তাফিজ নৈপুণ্যে শেষ ওভারে রোমাঞ্চকর জয়

শেষ দুই ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রানের। বোলিংয়ে এলেন সাকিব আল হাসান। তাকে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকালেন মোহাম্মদ নবী। তবে পরের বলেই সেই নবীকে ফিরিয়ে ফের আশা জাগান সাকিব। ১১ রান ব্যয় করে ১ উইকট নেন তিনি। শেষ ওভারে তাই আফগানদের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৮ রানের। বোলিংয়ে এলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দারুণ বল করলেন কাটার মাস্টার। ১ উইকেট নিলেন, ব্যয় করলে মাত্র ৪ রান। তাতে রোমাঞ্চকর এক জয় ধরা দিল বাংলাদেশের।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪৯ রান করে টাইগাররা। জবাবে আফগানদের ইনিংস থেমেছে ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে। গ্রুপ পর্বে আফগানদের বিপক্ষে ১৩৬ রানে উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই পরাজয়ের শোধ ভালোভাবেই নিল টাইগাররা।

এই জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা খুব ভালোভাবেই টিকে থাকল বাংলাদেশের। একইদিন দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ৯ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে দলটি। ফলে দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে ফাইনালে চলে গেল রোহিত শর্মার দল। আর আফগানিস্তান দুই ম্যাচে দুটিতেই হেরে আসর থেকে বিদায় নিল। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত। যা এখন শুধুই নিয়মরক্ষার। আর বুধবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ এখন অনেকটাই অঘোষিত সেমি ফাইনাল। যে দল জিতবে তারাই সঙ্গী হবে ভারতের।

বাংলাদেশের ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৬ রানে ২ উইকেট হারায় আফগানরা । ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ইহসানউল্লাহকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১ রান করে রহমত শাহ রান আউটের শিকার সাকিবের দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও থ্রোতে।

কিন্তু এরপর বেশ ভোগাতে থাকেন মোহাম্মদ শাহজাদ। মোহাম্মদ মিথুনের কল্যাণে ক্যাচ তুলে দিয়েও জীবন পেয়েছিলেন। সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি। তৃতীয় উইকেটে হাসমতউল্লাহর সঙ্গে তার জুটি হয় ৬৩ রানের। শেষ পর্যন্ত শাহজাদকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট হাতে যিনি টাইগারদের সর্বোচ্চ স্কোরার।

তবে এরপর টাইগারদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন হাসমতউল্লাহ। শাহজাদের সঙ্গে জুটির পর অধিনায়ক আসগর আফগানের সঙ্গে গড়লেন ৭৮ রানের জুটি। এই জুটিতে বেশ ভালোভাবেই এগোতে থাকে আফগানদের ইনিংস। তবে ৩৯ রান করা আসগরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এরপর হাসমতউল্লাহকেও ফিরিয়েছেন মাশরাফি। ৯৯ বলে ৫ চারে ৭১ রান করেন হাসমতউল্লাহ।

হাসমতউল্লাহ যখন কাঁটা পড়লেন আফগানদের তখন চাই ৩৯ বলে ৫৮ রান। হাতে ৫ উইকেট। ম্যাচটা তাই দারুণ জমে উঠে তখন। মোহাম্মদ নবী ও সামিউল্লাহ সেনওয়ারি ৪৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই দিয়েছিলেন। কিন্তু ৪৯তম ওভারে নবীকে ফিরিয়ে সাকিব ম্যাচে রাখেন বাংলাদেশকে। এরপর মোস্তাফিজ নৈপুণ্যে জয় ধরা দেয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমান। ১টি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল পুরোনো গল্প। এদিনও ব্যর্থ টপ অর্ডার। ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তাই শুরুতেই বাংলাদেশ দল যেন পথ হারাল। তবে দক্ষ নাবিকের মতোই সেই তরীকে এগিয়ে নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস। দুজনে ষষ্ঠ উইকেটে গড়লেন নিজেদের ইতিহাসে রেকর্ড জুটি। ১২৮ রান যোগ করেন এই দুজন। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ জুটিটি ছিল আল শাহরিয়ার রোকন ও খালেদ মাসুদ পাইলটের। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল তাদের।

মাহমুদউল্লাহ সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন। ৮১ বলের ইনিংসে ৩টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ২টি ছক্কা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ২০তম ফিফটি। অন্যদিকে একদিন আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি দিয়ে একাদশে ঢুকেন ইমরুল। ক্যারিয়ারে প্রথমবার তার স্থান হয় ছয় নম্বরে। যা নিয়ে বিতর্ক আছে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে কখনোই ওপেনিং বা তিন নম্বর ছাড়া খেলেননি তিনি। তবে নিজের দলে ডাক পাওয়ার সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন ইমরুল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫তম ফিফটি তুলে নিয়ে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ৮৯ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার।

ওপেনার লিটন দাস এদিন ৪১ রানের ইনিংস খেলেন। রান আউটে কাটা পড়ার আগে মুশফিকুর রহীম খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে এই দুজনের জুটি ছিল ৩৩ রানের।

আফগানদের পক্ষে আফতাব আলম সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মুজিব-উর-রহমান ও রশিদ খান। ব্যাট এবং বল হাতে দারুণ খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।