রমজান এলেই বেড়ে যায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম

সরকারের নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও মফস্বল শহরগুলোতে নেই কোন তদারকি। রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা অসাহয় হয়ে পড়ে। বাজারে এসে আকাশচুম্বি সব জিনিষের মূল্য দেখে হতবাক হন তারা।
রমজান এলেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন শাক-সবজি, মাছ-মাংসসহ সকল প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। প্রশাসনের বাজার মনিটরিংও ভেস্তে যায় ব্যবসায়ীদের কৌশলের কাছে। আর রোজাদার ব্যক্তিরা সবকিছু সহ্য করে অতিরিক্ত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে নিয়ে যান বাড়িতে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ।
বাগেরহাট কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ২ দিন আগে যে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩২ টাকা কেজি তা এখন কিনতে হচ্ছে ৪৫ টাকা, ৫৫ টাকা কেজির রসুন এখন ৭০ টাকা, ৩০ টাকার বেগুন এখন ৬০ টাকা, ৪০ টাকার শসা এখন ৭০ টাকা, ২০ টাকার পেঁপে এখন ৫০ টাকা, ৪০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি দোকানে দেখা যায়, কেজি প্রতি চিনির দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা, বেড়েছে মাংসের দামও। ৪৪০ টাকার গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, ব্রয়লারও পিছিয়ে নেই। ১২০ টাকার ব্রয়লার এখন ১৫০ টাকা এবং ১৬০ টাকার কক এখন ২২০ টাকা।
সকল প্রকার মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সাধারণ মানুষ মাছের কাছেও যেতে পারছে না। ২৬০ টাকার হরিণা-চামি-চামটি চিংড়ি এখন ৪২০ টাকা। এছাড়া রুই, কাতল, টেংরা, ইলিশ, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাগরের মাছের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। অধিকাংশ দোকানগুলোতে নেই কোন মূল্য তালিকা। তবে বাজার মনিটরিং করার জন্য বাজার কর্মকর্তার কোন সদিচ্ছা নেই বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল।
বাজার করতে আসা বেল্লাল হোসেন বলেন, বাজারের দ্রব্য মূল্যের দাম শুনে মাথা বিগড়ে যায়। মন চায় ঘর সংসার ছেড়ে দেই। ৫ জনের সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য এত দাম দিয়ে কি ভাবে কিনব।
অটো রিকসা চালক কবির হোসেন জানান, সারাদিন বৃষ্টিতে গাড়ী চালাতে পারিনি। আগের দিনের কিছু টাকা ছিল পকেটে। এ নিয়ে ঢুকলাম বাজার করতে। সংসারের প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বাজার করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এরকমই অনুভূতি বেশিরভাগ ক্রেতার।
বাগেরহাট জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. সুজাত হোসেন খান বাজারে দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধির কথা স্বীকার করলেও কবে নাগাদ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ লিয়াকত হোসেন লিটন বলেন, আমরা বাজার তদারকি শুরু করেছি। নির্ধারিত মূল্যের বেশী বিক্রি না করার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ^াস বলেন, শুনেছি বাজারে দ্রব্য মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দু’একদিনের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।