রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশেষ দূত

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার।  এ সময় টেকনাফ শালবাগান শরণার্থী ক্যাম্পে নয় রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসেন জাতিসংঘের দূত। টেকনাফ নয়াপাড় নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরের পাশে এলপিজি ওয়ারহাউস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের একটি কক্ষে এক ঘণ্টা ধরে রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের কথা শুনেন তিনি। সেখানে টেকনাফ নয়াপাড়া অনিবন্ধিত শালবাগানের ডেভলমেন্ট কমিটির নারী চেয়ারম্যান রমিদা বেগমসহ নয় রোহিঙ্গা নেতা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের ২৬ জুন ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে রমিদা বেগমকে চেয়ারম্যান করে ১১  জনের একটি কমিটি করা হয়।
জাতিসংঘের দূত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মিয়ানমার পরিস্থিতিতি তাদের কাছে তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে ক্রিস্টিন এস বার্গনার সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যা¤েপর চেয়ারম্যান রমিদা বেগম জানান, মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ফলে তারা সে দেশ থেকে প্রাণে বাঁচতে এপারে পালিয়ে আসেন। আগে এসব নির্যাতনের বিচার চায়, তারপর তারা সে দেশে ফেরত যাবে।

তার জবাবে জাতিসংঘের বিশেষ দূত তাদের আশ্বস্ত করেন। মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ চাপ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জোর করে নিজ দেশে পাঠানো হবে না।

বৈঠকে উপস্থিতি রোহিঙ্গা নেতা রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমার মা-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে মেরে ফেলেছে। আমরা মিয়ানমারে যাব না, আমাদের ঘরবাড়ি ও সে দেশের পরিচয়পত্র পেলে যাব।’