শীতে হাড়ের গিট থেকে মুক্তি পেতে

শীতে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতেই পারে, কোনো কোনো সমস্যা ফুসে উঠে তাপমাত্রা কমে গেলে স্বাস্থ্যের কিছু ঝুঁকি বেড়েও যায়। শীতের এসব অসুখ মোকাবেলায় শরীরকে সাহায্য করার আছে উপায়। যাদের আথ্রাইটিস আছে এদের অনেকেই অভিযোগ করেন, শীতকালে হাড়ের গিটগুলোতে ব্যথা খুব বাড়ে, কেন তা বাড়ে জানা নেই। হাড়ের গিটের সমস্যা যেমন ব্যথা ও নিশ্চলতা আবহাওয়াতে প্রভাবিত হয়। আবহাওয়া পরিবর্তনে হাড়ের ক্ষতি বা গিটের ক্ষতি হয় এমন প্রমাণ নেই।

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে তবে সযতনেঃ

সপ্তহে তিন থেকে পাঁচদিন নিয়মিত ব্যায়াম করলে হাড়ের গিট থাকে সুস্থ। যে সব ব্যায়ামে শরীকের চাপ কম পড়ে যেমন সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা। হাটুতে সমস্যা থাকলে, দৌড় ঝাঁপ, সিঁড়ি বেয়ে উঠা, ভারি জিনিস বহন করা, এড়ানো ভালো কারণ এতে হাটুর উপর চাপ পড়ে।

প্রদাহ প্রতিরোধ করার জন্য সুখাদ্য প্রয়োজন: চর্বিযুক্ত লাল গোস্ত খাওয়া যাবে না কারণ এতে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং ক্যালসিয়াম ক্ষয় ঘটে। যে সব খাবার প্রক্রিয়াজাত হয় এগুলো এড়ানোভালো, যেমন মিলে ছাটা সাদা চাল, ময়দার রুটি, এবং নাস্তা, এমন খাবার যাতে আছে ট্রান্সফ্যাটি এসিড এবং সম্পৃক্ত চর্বি।

এসব খাবার খাওয়া ঠিক না কারণ এসব খাবার খেলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে। এর পরিবর্তে এমন খাবার খাওয়া ভালো, যাতে রয়েছে প্রদাহরোধী গুনাগুন যেমন ফলফলারি, শাক সবজি, গোটা দানা শস্য, বাদাম ও উদ্বিজ্জতেল। খেতে হবে প্রচুর তৈলাক্ত মাছ, গভীর সমুদ্রের শীতল পানির মাছ।

অনেকে বলেন মোটা তাজা। সঠিক নয়। বরং মোটা রোগা বলাই ভালো। মোটা হলে অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে। শরীরে বাড়তি ওজন কমিয়ে থাকতে পারলে, হাটুর উপর চাপ কমে। হাড়ের নিচের ব্যথা বেশি হয় হাটুতো। দেহের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাত হলো বডিমাম ইনডেক্স বা বি.এম.আই (ইগও), এই পরিমাপ থেকে জানা যায় শরীরের ওজন সঠিক রয়েছে কিনা। বি.এম.আই ২৫ এর নিচে থাকলে ভালো। বিজ্ঞজনদের অভিমত।

স্ট্রেচিং প্রয়োজন: হাটুর উপর টান টান পেশির চাপ অনেকটা কমাতে পারে স্ট্রেচিং ব্যায়াম। হ্যার্মাষ্টিং পেশী টান টান থাকলে একটা ব্যায়াম করা যেতে পারে। চিৎ হয়ে শুয়ে পরুন এক হাত দিয়ে একটি হাটু ধরে একে যত কাছে সম্ভব বুকের কাছে আনুন। এভাবে রাখুন কয়েক সেকেন্ড। বিপরীত হাটুর এমনি ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে তিন থেকে পাচঁ দিন। প্রতিদিন পাঁচবার এ ব্যায়াম করুন।

হিমক্ষত:

আমাদের শরীর খারাপ বা চাপগ্রস্ত এমন হলেই হিমক্ষত হয় মনে করি আমরা। হিমক্ষতের কোনো নিরাময় নেই, তবে শীতে নিজের দেখভাল করলে একে ঠেকানো যায়।

টিপস: প্রতিদিন এমন সব কাজ করা উচিত যাতে মনে চাপ পড়ে কম, চাপ হয় কম, চাপ হ্রাস পায় যাতে যেমন উষ্ণ ধারা পানিতে গোসল, পার্কে হাটুন, নয়ত প্রিয় কোনো ছবি দেখুন হলে বসে।