শুধু ভোট বর্জনেই নিবন্ধন বাতিল নয়: ইসি

পরপর দুই বার ভোট বর্জন করলেই কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। বলেছেন, এখানে আরও নানা বিষয় আছে। মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সচিব।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন থাকবে কি না এ নিয়ে আলোচনা আছে। কারণ, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিবন্ধন আইনে, টানা দুই বার ভোট বর্জনকারী দলের নিবন্ধন বাতিলের কথা বলা আছে। আর নিবন্ধন বাতিল হলে কোনো দল তার দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে পারে না।

বিএনপি ভোটে না এলে নিবন্ধন হারাবে কি না, এ বিষয়ে এক প্রশ্নে কমিশন সচিব বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি পরপর দুইবার একটি আসনেও নির্বাচন না করে তাহলে নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তবে এখানে আরও অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া থেকে যায়।’

কতগুলো দলের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেটি পরিসংখ্যান করা হয়নি বলেও জানান হেলালুদ্দীন।

ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘৩০ অক্টোবরের পরে যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।’

‘আমরা প্রস্তুতি হিসেবে ভোটকেন্দ্রের তালিকা পেয়েছি। এ নির্বাচনের জন্য ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্রের তালিকা পেয়েছি। এগুলো মুটামুটি ফাইনাল হয়ে গেছে। তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’

আজ থেকে ভোটার তালিকার সিডি পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান কমিশন সচিব। প্রথমে খুলনা ও সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে পাঠাব। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে।

‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যতগুলো শাখা রয়েছে, তার প্রতিটি শাখার সঙ্গে আমরা কথা বলছি। নির্বাচনে কোথায় যাতে কোনো ভুল ভ্রান্তি না হয়। সে বিষয়ে তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।’

‘ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যারা কাজ করবেন, তাদের তথ্যগুলো আমরা সংগ্রহ করছি। এদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। তফসিল ঘোষণার পরপরই এই প্রশিক্ষণ করানোর পরিকল্পনা করা করছি।’

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অঞ্চল বা জেলাভিত্তিক হবে বলেও জানান কমিশন সচিব।

এক প্রশ্নে হেলালুদ্দীন জানান, সরকারি, বেসরকারি অফিস, ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ দেয়া হবে। ইতিমধ্যে যারা প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন, নিরপেক্ষ ব্যক্তি এবং যাদের বিরুদ্ধে দলীয় তকমা লাগার অভিযোগ নেই এমন লোকদের নিয়োগ দেয়া হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) আইন- আরপিওর সংশোধনীর প্রস্তাব পাস না হলে পুরনো আরপিতেই নির্বাচন হবে বলেও জানান হেলালুদ্দীন। জানান, কমিশনের পাঠানো প্রস্তাব এখন কী পর্যায়ে আছে, সেটা তারা জানেন না।

নির্বাচনের সময় প্রশাসনের প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলির বিষয়টিও আরপিও সংশোধানীতে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান ইসি সচিব। বলেন, ‘প্রত্যেক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে এক প্রশ্নে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন এখনও নেয়নি। আরপিও সংশোধন হলে নির্বাচন কমিশন হয়তো সেই সিদ্ধান্ত নেবে।…যদি সংসদ নির্বাচনে নাও হয় তাহলে সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।