শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা

এইচ এম আলাউদ্দিন:: শুরু হচ্ছে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা । আজ থেকেই খুলনা উত্তাল হয়ে উঠবে ভোটের রাজনীতিতে। বেলা ২টা থেকেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং শুরু হয়ে যাবে। মাইকিং চলবে প্রতিদিন রাত ৮টা পর্যন্ত।
প্রধান দু’টি দলসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের পাঁচ মেয়রপ্রার্থী, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডের ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে পাচ্ছেন নির্বাচনী প্রতীক। প্রতীক পেয়েই সবাই নেমে পড়বেন ভোটযুদ্ধে। ইতোমধ্যেই আওয়ামীলীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক খানজাহান আলী(রহ:) এর মাজার জিয়ারত করেছেন। আজ তিনি মেয়রপ্রার্থীর ওয়েবসাইট উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু করবেন নির্বাচনী প্রচারণা। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের মেয়রপ্রার্থী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুও আজ পিতা-মাতার কবর জিয়ারত এবং বিএনপি কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের মধ্যদিয়ে শুরু করবেন প্রচারণা। ২/১দিনের মধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন নির্বাচনী ইশতেহারও। অন্য তিনটি দলের প্রার্থীরাও ইতোমধ্যে যে যার দলীয় ফোরামে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে নিজেদের নির্বাচনী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। সব মিলিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সূত্রপাত হলেও খুলনার মানুষের মধ্যে অনেকটা প্রধান আলোচনার বিষয়ই হচ্ছে কেসিসি নির্বাচন। আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। এবারের মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দু’লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন এবং মহিলা ভোটার দু’লাখ ৪৪ হাজার ১০৭জন। সর্বমোট ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২২৬টি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূণূ(ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের মতে মাত্র ৬৩টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত। তবে রিটার্নিং অফিসার মো: ইউনুচ আলী বলেন, ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সভা থেকেই চূড়ান্ত করা হবে কয়টি কেন্দ্র সাধারণ ও কয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
কোন কোন কেন্দ্রের বিষয়ে আশংকা রয়েছে প্রার্থীদেরও। গতকালও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর প্রার্থী তার ওয়ার্ডের দু’টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পত্র দিয়েছেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক প্রার্থী কয়েকটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত নজর দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনও ইতোমধ্যে বেশ কঠোরতা দেখিয়েছে। ৩৩ দফার আচরণ বিধিমালার আলোকে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রচারণা যেহেতু আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সেহেতু আইন-শৃংখলার অবনতি থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় আজ থেকেই মাঠে থাকছেন ১০জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। ১২ মে পর্যন্ত ১০জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন ৩১টি ওয়ার্ডে। ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মো: আমিন উল আহসান বলেন, আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ৫জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। আজ প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে যেহেতু আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে সেজন্য ১০ জন ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ৩১জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। প্রয়োজনে ম্যাজিষ্ট্রেটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।অবশ্য খুলনার প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের দু’মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হলেও উভয় প্রার্থী বা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে সৌহার্দ্যভাব। বিশেষ করে আওয়ামীলী ও বিএনপির দু’মেয়রপ্রার্থী গত ১৯ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগের শুনানী শেষে যেভাবে হাস্যজ্জ্বলভাবে বেরিয়ে আসেন তাতে অনেকের মনেই আশার আলো জাগে যে, রাজনৈতিক মাঠের বক্তব্য-বিবৃতি যাই হোক নির্বাচন হবে উৎসবমুখর। ভোটারদের মধ্যেও এমন প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে।