শেখ হাসিনার ফরম কিনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্য দু’টি মনোনয়নপত্রের ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্র বিতরণ কার্যক্রম গতকাল শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে একটি ফরম কেনা হয়েছে শেখ হাসিনার নিজের আসন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের জন্য। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফরমটি কিনে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লার কাছে হস্তান্তর করেন।

শেখ হাসিনার জন্য কেনা অন্য ফরমটি কোন আসনের তা পরে প্রকাশ করা হবে বলে ওবায়দুল কাদের জানান। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসনের পাশাপাশি তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা রংপুরের পীরগঞ্জ (রংপুর-৬) আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন। পরে তিনি রংপুর-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে ওই আসনের এমপি হন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এবারো শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্য রংপুর-৬ আসনের মনোনয়ন ফরম কিনে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন ওবায়দুল কাদের। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জন্য নোয়াখালী-৫ আসনের একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানায় আওয়ামী লীগ অফিস।

এর বাইরে যারা নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা চালাবেন, জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের ফলাফল শূন্য এটা বলা যাবে না। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) যে তালিকা দিয়েছে তা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আইন মেনেই তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের অধীনে সব বিষয়। তফসিল ঘোষণার পর আমরা একটা নিয়মের মধ্যে চলে গেছি। তফসিল ঘোষণার কারণে তারা (বিএনপি) আন্দোলনের কমসূচি দেবে এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থি। তাদের আন্দোলনে জনগণ সায় দেবে না। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট দুই হাজার ৬০৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিল। এবার সেই সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন দলটির নেতারা। এবার মনোনয়ন ফরমের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফরম বিক্রি থেকে গতবার আওয়ামী লীগের তহবিলে জমা পড়েছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এবার তা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে দলটির নেতাদের প্রত্যাশা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্রের ফরম বিতরণ কার্যক্রম উপলক্ষে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও তার আশপাশে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দলের শত শত নেতাকর্মী তাদের পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য হাজির হন।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আওয়ামী লীগ কর্মীরা ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়ক ও আশপাশের এলাকা সরগরম করে রেখেছেন ঢাক-ঢোল ও গানবাজনায়। পছন্দের নেতাদের প্রার্থী করতে স্লোগানও দিচ্ছেন তারা। দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের বর্ধিত ভবনে দেশের আট বিভাগের জন্য আটটি বুথ খোলা হয়েছে। বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা মনোনয়ন বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সিলেট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, রংপুর বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, খুলনা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপন, বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।