সচল হচ্ছে খুলনার বন্ধ নৌ-রুটগুলো

রঞ্জু আহমদ:: খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের নৌ-পথগুলো সচল হচ্ছে। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে একাধিক রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হয়েছে। নাব্যতা কাটাতে ড্রেজিং করে একাধিক নদীর তলদেশ গভীর করা হচ্ছে। খুলনার একাধিক রুটে লঞ্চ ও স্টিমার সার্ভিস চালু হওয়ার পর বাণিজ্যিক প্রসারতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে এ অঞ্চলের বিভিন্ন নৌ-বন্দরে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, গত পনের বছর আগেও খুলনা থেকে খুলনা থেকে ১৯টি রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ, পণ্যবাহী জাহাজ ও কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করত। একসময় তা’ কমে মাত্র ছয়টি রুটে এসে দাঁড়ায়। তবে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থা থেকে সরে এসে এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া একাধিক রুটে পুনরায় নৌ-যান চলাচল শুর হয়েছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং অর্থনৈতিক বোদ্ধারা।

সূত্রটি জানিয়েছে, গত বছর ৩০ নভেম্বর থেকে খুলনা-ঢাকা রুটে স্টিমার সার্ভিস চালু হয়। এর আগে ২০১১ সালে নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে স্টীমার সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা পুনরায় চালু হয়। আপাতত সপ্তাহে একবারই একটি স্টীমার যাতায়াত করছে। নৌ-পথে সময় বেশী লাগলেও কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুবিধা থাকায় ব্যবসায়ীরা এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তবে গত এক বছরে এ সার্ভিসটি প্রায় সোয়া কোটি টাকার মত লোকসানে রয়েছে। অতিক্তি ভাড়া এবং প্রচারণা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আরও আন্তরিক হলে এ খাতটি এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে অন্যতম ভূমিকা পালন করবে। তবে এজন্য সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সভাপতি কাজি আমিনুল হক। তিনি বলেন, এক সময় খুলনার অর্থনীতি পরিচালিত হতো নদী কেন্দ্রীক বাণিজ্যের ওপর। তবে এখন সে আবস্থা আর নেই। সেই অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সকলকেই সচেষ্ট হতে হবে।

এদিকে গত এক দশক ধরে খুলনায় মাত্র ৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল চালু ছিল। এগুলো হচ্ছে খুলনা-মদিনাবাদ, খুলনা-নীলডুমুর, খুলনা-জোড়সিং। তবে গত ৬ মাস ধরে খুলনা-কালাবগি নৌ-রুটে আবারও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। এছাড়াও দুটি রুটে লঞ্চ চালুর জন্য আবেদন জমা পড়েছে। তবে নৌ-যান চালু রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং চালু বলে মনে করছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। সরকারি এ দপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম কায়সারুল ইসলাম বলেন, নৌ-রুটগুলো চালুর জন্য আমরা নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং শুরু করেছি। এরমধ্যে খুলনা-নওয়াপাড়া নদীর শিরোমনি থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ড্রেজিং শুরু হয়েছে। এ কাজে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। এছাড়াও খুলনা-মংলা নদীপথ, খুলনা বরিশাল, খুলনা-বাগেরহাট, দৌলতপুর-গোপালগঞ্জ, টেকেরহাট-গোপালগঞ্চ রুটের যেসব এলাকা ড্রেজিং করা প্রয়োজন সেগুলোর জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে।

সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের ৭৮টি নদীর মধ্যে খুলনার জেলার হাড়িয়া, ময়ূর, হামকুড়া, কচা, শেলা ও বাগেরহাটের ভোলা, হাওড়া, সড়া, চুনা, যমুনা, রামসাগর, সাতক্ষীরার সোনাই, কুষ্টিয়ার টেকা, নড়াইলের চিত্রা, মাদারীপুরের নিম্ন কুমার, মরাগাঙ ভদ্রাসহ ২৫টি নদী এরই মধ্যে মরে গেছে। এছাড়াও ৩০টি নদী শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জানা গেছে, খুলনা মংলা নৌপথ রূপসা ও পশুর নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। বটিয়াঘাটা উপজেলা সংলগ্ন কাজীবাছা নদীতে চর জেগে ওঠায় মংলা বন্দর থেকে মালবাহী কার্গো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। পাইকগাছার দেলুটি থেকে পাইকগাছা গড়ইখালিমুখী শিবসা নদীতে বিশাল চর জেগে উঠেছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির খুলনা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি এসএম আছাদুজ্জামান বলেন, খুলনা নৌবন্দর থেকে এক দশক আগেও ১৯টি রুটে নৌযান চলাচল করত। বর্তমানে আর সে অবস্থা নেই। এখন মংলা বন্দর থেকে সরকারি খাদ্য ও সার ছাড়া কোন পণ্যই নৌপথে আসে না। যে কারণে পণ্যের ব্যয়ও বাড়ছে। স্টিমার সার্ভিসটি চালু হওয়ার পর কিছু কিছু পণ্য সপ্তাহে একদিন আসে। নৌ-রুটগুলো চালু করতে পারলে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা আবার সচল হবে।