সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, রাত পোহালেই ভোট

এইচ এম আলাউদ্দিন:: শেষ হলো টানা ১৯দিনের প্রচারনা। এখন ভোটের অপেক্ষা। আজকের দিবাগত রাত পোহালেই কাল(মঙ্গলবার) সকাল থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোটযুদ্ধ শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনও ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রাস্তায় রাস্তায় টহল শুরু করেছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা। রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। মানুষ যাতে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারে সেজন্যই এমন প্রস্তুতি। তার পরেও অনেকের মধ্যে শংকা কাজ করছে। যেহেতু এই প্রথমবারের মত দলীয় ভিত্তিতে কেসিসির মেয়র পদে নির্বাচন হচ্ছে সে কারণে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলই এটিকে নিয়েছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেষ পর্যন্ত কোন দলের বিজয় হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনটি গতকাল প্রার্থীদের জন্য খুব একটা ভাল যায়নি। সকাল থেকেই বৃষ্টি, দিনভর মেঘলা আবহাওয়ায় কেমন যেন শেষ প্রচারণা জমে উঠতে পারেনি। তার পরেও ঘরে বসে ছিলেন না প্রার্থীরা। গণসংযোগ, পথসভা, নেতাকর্মী-শুভাকাংখীদের সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেদেরকে ভোটারদের কাছাকাছি নেয়ার চেষ্টা করেন প্রার্থীরা। শুধু প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীই নয়, বরং পাঁচ মেয়রপ্রার্থীরই দিনটি কেটেছে মহাব্যস্ততায়।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন নির্বাচন কমিশনের ঃ কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো: ইউনুচ আলী বলেন, কমিশন ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজ সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি পাঠানো হবে। বিকেল থেকেই প্রিজাইডিং অফিসারগন কেন্দ্রগুলো বুঝে নিয়ে রাতে সেখানে অবস্থান করবেন। একটি সাধাণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ(ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে থাকবেন ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য। এবার ভোট হচ্ছে ২৮৯টি কেন্দ্রে। যার কক্ষসংখ্যা থাকবে ১৫৬১টি এবং অস্থায়ী কক্ষ থাকবে ৫৫টি। কেএমপির দেয়া তথ্যমতে ২৮৯টির মধ্যে ২৩৪টিই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একথা যেমন রিটার্নিং অফিসার মো: ইউনুচ আলী জানিয়েছেন তেমনি এটি নিশ্চিত করেছেন কেএমপির মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন।
আজ কেন্দ্রে যাবে সরঞ্জামাদি ঃ আজ সোমবার সকাল থেকেই কেন্দ্রে পাঠানো হবে ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি। নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রক্ষিত মালামাল গত দু’দিন ধরে শর্টিং করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের এসব মালামাল বুঝিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন। বিকেলের মধ্যেই সব মালামাল কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও আজ থেকে কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। এক কথায় রাত থেকেই ২৮৯টি কেন্দ্র চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে।
দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকবেন ২১৯ জন ঃ নির্বাচন কমিশন থেকে গতকাল রোববারই ১৭৯ জন পর্যবেক্ষকের তালিকা খুলনায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। এর মধ্যে রয়েছেন নবলোকের ৪৮জন, লাইট হাউজের ২৩জন, উত্তরণের ৪৩জন, ওয়েব ফাউন্ডেশনের ছয়জন, রূপান্তরের ৩৭জন, আইন সহায়তা কেন্দ্রের ১২জন, ফেমা’র আটজন এবং জানিপপের দু’জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ৩৫ জনের পর্যবেক্ষক থাকবেন উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, বিদেশী ৪/৫ জন পর্যবেক্ষকও থাকছেন। যারা এ পর্যন্ত আবেদন করেছেন তাদেরকে আজই অনুমোদন দেয়া হবে বলেও তিনি জানান। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবারের কেসিসি নির্বাচনের দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকছেন ২১৯জন। এর বাইরেও স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আসা বেশকিছু সাংবাদিক থাকবেন নির্বাচনী মাঠে। ঠিক কতজন সাংবাদিক থাকছেন সেটি আজ সোমবার নির্ধারণ হতে পারে বলে রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন।
আজ মক ভোট ঃ ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই জসিম উদ্দিন হোস্টেল কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন(ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে আজ সোমবার। আজ সকাল ১০টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ দু’টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে মক(ডেমো) ভোট দেবেন ২৯৭৮জন ভোটার। এর মধ্যে সোনাপোতা স্কুল কেন্দ্রের চারটি কক্ষে এক হাজার ৯৯ জন মহিলা এবং পিটিআই জসিম উদ্দিন হোস্টেল কেন্দ্রের ছয়টি কক্ষে এক হাজার ৮৭৯জন পুরুষ ভোটারকে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে হবে। আজ মক(ডেমো) ভোট হলেও আগামীকাল যথারীতি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্যান্য কেন্দ্রের ন্যায় এ দু’টি কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ হবে। শুধুমাত্র পার্থক্য হচ্ছে অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হলেও মাত্র দু’টি কেন্দ্রে হবে ডিজিটাল ব্যালটে অর্থাৎ ইভিএম-এ। ইভিএম পদ্ধতির ভোট গ্রহণের জন্য উক্ত দু’টি কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যে গত পাঁচদিন ধরে প্রচারনা চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কাজ শুরু করেছেন ৩১জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ঃ নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৩১জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গতকাল রোববার থেকে কাজ শুরু করেছেন। তারা নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ১৬ মে পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ব্যাপারে খুলনার জেলা প্রশাসকের এক পত্রে শনিবার ৩১জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব অর্পন করা হয়।
যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঃ আজ সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বন্ধ হয়ে যাবে নয় প্রকারের যানবাহন। যা বলবত থাকবে আগামীকাল দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। এগুলো হচ্ছে, বেবীট্যাক্সি, অটো রিক্সা, ট্রাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জীপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো। এছাড়া গতরাত ১২টা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে মটর সাইকেল চলাচলও। শুধুমাত্র নির্বাচন কাজে নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। এজন্য নির্বাচন অফিস থেকে অনুমতিপত্র গ্রহণ করতে হয়েছে।