সব মেয়র প্রার্থীই চান নিরপেক্ষ নির্বাচন

এইচ এম আলাউদ্দিন:: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা খুলনায় এসেই শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। রোববার তিনি আইন-শৃংখলা কমিটির সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি বিকেলে বসবেন প্রার্থীদের সাথে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে কেসিসির পাঁচ মেয়রপ্রার্থীরই প্রত্যাশা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এই প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় হিসাব মেলানোরও চেষ্টা করবেন প্রার্থীরা। সরকারি দলের মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি সরকারের বাইরের অন্য চারটি দলের প্রার্থীদেরও প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের খুলনায় অবস্থানকালে গতকাল শনিবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয় পাঁচ প্রার্থীর সাথে। তারা সকলেই একটি সুন্দর নির্বাচন আশা করছেন।
আওয়ামীলীগের মেয়রপ্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বললেন, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে এটাই তার প্রত্যাশা। নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর অবাধ হোক এজন্যইতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনায় এসেছেন। আইন-শৃংখলাসহ নির্বাচন কার্যক্রমের সাথে যারা জড়িত তাদের সাথে আলাপ করে যাতে সুন্দরভাবে নির্বাচন শেষ করা যায় সেটিই তিনি চেষ্টা করবেন। একজন প্রার্থী হিসেবে এটিই তার প্রত্যাশা।
বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সিইসির কাছেই সব প্রত্যাশা। মূলত সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে নির্বাচনের সবকিছুর দায়িত্বই হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার দায়িত্বই হচ্ছে কমিশনের। সেই কমিশনের প্রধান হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ভূমিকা রাখতে হবে। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে সেদিকেও সিইসি নজর দেবেন এমনটিও আশা করেন তিনি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সব অর্গানগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করাতে হবে। কারণ নির্বাচন যদি ভাল না হয় নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা হারাবে বলেও মনে করেন বিএনপির এ প্রার্থী। দেশে যে গণতন্ত্রের সংকট চলছে তা’ উত্তরণের পথই হচ্ছে নির্বাচন এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা। এর দায় পুরোটাই নির্বাচন কমিশনের। সিইসিকেই সেই ভূমিকা রাখতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। তা না হলে মানুষ হতাশ হবে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তিনি সেনা মোতায়েন, খুলনার পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো এবং একটি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, বিতর্কিত ইভিএম বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া সন্ত্রাস দমনের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করা, সন্ত্রাস বন্ধ করা, যারা এই গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে সেইসব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুশফিকের প্রধান দাবিটিই হচ্ছে দেয়ালে পোষ্টার লাগানোর অনুমতি দেয়া। কারণ বর্তমানে বৃষ্টিতে ঝুলিয়ে রাখা পোষ্টার ছিড়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির ৮এর ৮ উপ-ধারায় স্পষ্ট এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘দেওয়াল বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাইতে পারিবেন না’।
শফিকুর রহমান মুশফিক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে কোনরকম বৈষম্যমূলক না হয় সেদিকে নজর রাখা উচিত। সেই সাথে যাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হয় সেটিও নিশ্চিত করার দাবি তার। এক কথায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আর কিছুই চাওয়ার থাকতে পারে না বলেও তিনি মনে করেন। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কোন আশংকা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেন তিনি। কেননা এই প্রথম খুলনাবাসী দলীয় প্রতীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক একটি ভাল, পরিচ্ছন্ন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার আশা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘেœ প্রদান করতে পারে, এক জনের ভোট আর একজন যাতে না দিতে পারে এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হোক এটাই তার একমাত্র কামনা।
সিপিবি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু বলেন, শুধুতো তার একার নয়, দেশবাসীরই প্রত্যাশা হচ্ছে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন। কালো টাকা, পেশি শক্তি, সাম্প্রদায়িকতা ছাড়া একটি নির্বাচন। যেখানে ধর্মের ব্যবহার হবে না, কেউ পেশি শক্তি বিনিয়োগ করবে না, কালো টাকা ছড়াবে না, এই জায়গাগুলো স্বচ্ছ থাকার বিষয় নিশ্চিত করার দাবিই তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে করেন। যেগুলো তার দল বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি ও জোট বরাবরই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে। এখন খুলনার নির্বাচন কমিশনকেও তিনি জানাচ্ছেন। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে ৩শ’, ৫শ’ টাকার বিনিময়ে নির্বাচনী প্রচার কাজে ব্যবহার করছেন। যে জনপ্রতিনিধি টাকা বিনিয়োগ করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনিতো এটিকে তার ব্যবসা মনে করছেন। এক টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায় পাঁচ টাকা লাভ করবেন। এতে ভোটাররা বাণিজ্যিকীকরণের শিকার হবে। যারা কালো টাকা, পেশি শক্তি, ধর্মের ব্যবহার করে বিজয়ী হবেন তারা কি জনসেবা দেবে ? এটাকে কোনভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বলা যায় না উল্লেখ করে তিনি এগুলো বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহবান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। যাকে বলা হবে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড।