সম্প্রচার কমিশন গঠনে আইন অনুমোদন

ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন পাওয়ার বিধান রেখে সম্প্রচার আইন ২০১৮ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

তিনি জানান, খসড়া আইনে নিবন্ধন দেয়ার জন্য একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে, সম্প্রচার মাধ্যমকে শক্তিশালী ও গতিশীল করা এবং সম্প্রচার মাধ্যমের মানোন্নয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা, সম্প্রচার মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতি ও মানদণ্ড অনুসরণ, সম্প্রচারের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রতিযোগিতা, নতুন লাইসেন্স বা নিবন্ধন প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আইনে অনলাইন গণমাধ্যমের লাইসেন্স বিষয়ে এই কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকবে। তারা যে সুপারিশ করবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

তিনি জানান, আইনে অনেকগুলো সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যম, কমিশনের সংজ্ঞা এবং সম্প্রচার বলতে কী বোঝায়, তা ধারা ২ এর ১৭-তে বলা হয়েছে।

সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাবটি আইনের ৬ ধারায় দেয়া আছে। এতে বলা হয়েছে, কমিশন হবে ৭ সদস্যের। আইনের ৭ ধারায় কমিশন গঠনের জন্য একটি সার্চ কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫ সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটি সম্প্রচার কমিশনের সদস্য কারা হবেন, তা লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। রাষ্ট্রপতি তাদের থেকে একজন চেয়ারম্যানসহ ৭ সদস্যের একটি কমিশন তৈরি করে দেবেন। সাত সদস্যের মধ্যে একজন নারী কমিশনার থাকবেন।

শফিউল আলম জানান, আইনের ৮ ধারায় কমিশনের সদস্যদের যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কোনো ধরনের জনপ্রতিনিধি কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিও সদস্য হতে পারবেন না। দেউলিয়া বা স্খলনজনিত কোনো ঘটনায় দোষী হলে তিনি এ কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না। আদালতের রায়ে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও কেউ এ কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না। প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে থাকলেও কমিশনের সদস্য হবার সুযোগ নেই। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবসা বা কোনো প্রকার সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত থাকেন, এমন ব্যক্তিও এই কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না।

তিনি জানান, কমিশনের সদস্য হবার ক্ষেত্রে যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চেয়ারম্যান যিনি হবেন, তাকেও একই যোগ্যতার অধিকারি হতে হবে। পদের মেয়াদ বিষয়ে বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগের তারিখ থেকে ৫ বছর বা নিজের ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন।

শফিউল আলম জানান, এই আইনের ১০ ধারায় কমিশনারদের অপসারণ বিষয়ে বলা হয়েছে— শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অসামর্থ যদি হন, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কাজে লিপ্ত থাকেন, তাহলে তাকে কমিশনার পদ থেকে অপসারণ করা যাবে। কমিশনের সভার ক্ষেত্রে ৩ জন উপস্থিত থাকলেই কোরাম হবে।

অনলাইন গণমাধ্যমের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে হোস্টিংকৃত বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্টারনেটভিত্তিক রেডিও বা টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম সম্প্রচারের উদ্দেশে স্থির ও চলমান চিত্র, ধ্বনি ও লেখা বা মাল্টিমিডিয়ার অন্য কোনো রুপে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ বা সম্প্রচারকারি বাংলাদেশি নাগরিক বা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিদ্যমান যেসব গণমাধ্যম চালু রয়েছে, তারা এই আইনের আওতায় পড়বে না বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে।’