সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত এলাকা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৫৬টি জেলায় ৩২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের এক লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন থেকে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে। আমরা তাদের এক লাখ করে টাকা দিচ্ছি। তারা নিজ নিজ গ্রামে কাজ করে খেতে পারবে। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবার করতে পারবে।’

দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী র‍্যাব, পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সুন্দরবনের ছয়টি দস্যু বাহিনী বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। সেখানে স্বারষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণ করা সাবেক জলদস্যুদের পুর্নবাসনের আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫৪ সক্রিয় সদস্য ৫৮টি অস্ত্র ও ৩ হাজার ৩৫১টি গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

র‌্যাব জানায়, ইতোপূর্বে মোট ২৬টি বাহিনীর সর্বমোট ২৭৪ জন জলদস্যু, বনদস্যু  আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা ৪০৪টি অস্ত্র এবং ১৯ হাজার ১৫৩ রাউন্ড গুলি জমা দেয়।

বনদস্যুদের এই স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ঢাকাটাইমসের খুলনা প্রতিনিধি সোহাগ দেওয়ান, বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতনিধি মোহসিন উল হাকিমসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী র‌্যাবকে সহায়তা করেন।