সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের শেষ দিন বৃহস্পতিবার

আগামী বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) সুন্দরবনের বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের শেষ দিন। সকাল ১০টার দিকে বাগেরহাটের সদরে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এই অনুষ্ঠানে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

দক্ষিণ অঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এ বন দেশের ঐতিয্য বহন করে চলেছে। সুন্দরবনকে ঘিরে এসকল জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরকারের ঘোষণা মোতাবেক র‌্যাপিড এ্যাকশান বাটালিয়ন (র‌্যাব)র উদ্যোগের কারণে বনজীবীদের কাছে ভয়ঙ্কর বন এখন ধীরে ধীরে অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে সুন্দরবনের জলদস্যু-বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে পাল্টে যাচ্ছে সুন্দরবনের চিত্র। তাছাড়া সরকারের নানা পরিকল্পনায় সুন্দরবন বিশ্বের পর্যটন বাজারে আরও মনমুগ্ধকর রূপে হাজির হতে যাচ্ছে। আত্মসমর্পণ জলদস্যু-বনদস্যুদের পুনর্বাসনে সুন্দরবনের হাসি প্রকল্পের উদ্বোধন চলতি বছরের গত ১২ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করা  হয়েছে। এতে করে সুন্দরবনের বনদস্যুরা সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে দ্রুততার সাথে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।

র‌্যাব সূত্র আরও জানায়, এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৬টি বাহিনীর ২৬৪ জন জলদস্যু, ৩৭৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৮ হাজার ৮০৪ রাউন্ড গোলাবারুদসহ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তারা সমাজের অন্যান্য অপরাধী ও বিপজ্জনক জনগোষ্ঠীর সামনে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে র‌্যাবকে সহায়তা করেছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোহসিন উল হাকিম, ঢাকা টাইমসের খুলনা প্রতিনিধি সোহাগ দেওয়ান ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের রিপোর্টার আশিকুর রহমান শ্রাবণ।

র‌্যাব সূত্র আরও জানায়, আত্মসমর্পণকৃত সাবেক এসকল জলদস্যু পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে র‌্যাব ‘সুন্দরবনের হাসি’ (প্রস্তাবিত) প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।