সুন্দরবনে রাস মেলার সময় হরিণ শিকারের অভিযোগে আটক ৫৭জন

সুন্দরবনে রাস মেলাকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হরিন শিকারীরা। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ ৫৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের বন আইনে মামলাও দেওয়া হয়েছে। এসময় হরিণের মাথা, চামড়াসহ বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র উদ্ধার করেছে বনবিভাগের সদস্যরা।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হয় তিনদিন ব্যাপী রাস উৎসব। এ মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী ও পর্যটকরা আগমন করে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির চোরাশিকারী হরিণ শিকারে মেতে ওঠে। বনবিভাগের অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান থেকে বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনে ৫৭ জনকে আটক করেছে। এদের সকলেই রাস মেলার দর্শনার্থী ছিল।

সুন্দরবনে টহলরত স্মার্ট পেট্রোল টিম-১ এর প্রধান ও কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটো বলেন, রাস মেলা উপলক্ষে চোরা শিকারীদের ঠেকাতে বন বিভাগ টহল জোরদার করে। বৃহস্পতিবার রাতে দর্শনার্থী বোঝাই দুটি ট্রলার সুন্দরবনের পাটকোষ্টা মোরগখালী এলাকায় ঘুরছিল। এসময় স্মার্ট টহল টীম তাদের থামতে বলে তল্লাশী চালালে ট্রলার থেকে হরিণের মাথা, চামড়াসহ বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র দেখতে পায়। এসময় ট্রলার দুটিতে ৫৭ জন ছিল। তারা সকলেই রাস মেলার উদ্দেশ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসে। ট্রলার দুটি থেকে হরিন শিকারের ৫০ মিটার ফাঁদ, হাড়, দা কুড়াল উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তাদেরকে আটক করে শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়।

বনবিভাগের সূত্রটি জানিয়েছে, সারাবছর সুন্দরবন থেকে যে পরিমাণ হরিণ শিকার হয়, রাসমেলাকে ঘিরে তার চেয়ে বেশি হরিণ শিকার হয়ে থাকে। নাইলনের ফাঁদ, জাল পেতে, স্প্রীং বসানো ফাঁদ, বিষটোপ, তীঁঁর বা গুলি ছুড়ে, কলার মধ্যে বর্শি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ফাঁদসহ পাতার উপর চেতনা নাশক ঔষধ দিয়ে নিধন করা হয়ে থাকে বিপুল সংখ্যক হরিণ। এরপর চামড়া,শিং সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পাঠিয়ে দেয়া হয় উপযুক্ত ক্রেতাদের কাছে। কখনো কখনো ঝামেলা এড়াতে তা মাটিতে পুতে বা সাগরে ফেলে দেয়া হয়। লন্ডন ভিত্তিক ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাষ্ট অফ বাংলাদেশ ও জুলজিক্যাল সোসাইটির তথ্যমতে, সুন্দরবনে বছরে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশী হরিণ শিকারীদের হাতে মারা পড়ে। মেলা চলাকালীন দর্শনার্থী ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব চোরা শিকারীরা সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, আলোর কোল, কটকা, কচিখালী দুবলা চান্দেরশ্বর, বগি, চরখালী, তালপট্টিসহ যে সকল এলাকায় হরিণের বেশী বিচরণ শিকারীরা সে সব এলাকায় বিভিন্ন ফাঁদ দিয়ে শিকার করে হরিণ।