১৫ জানুয়ারি থেকে বাইরের ইজিবাইক নগরীতে চলবে না

এ এইচ হিমালয় : খুলনায় ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইক প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এজন্য আজ রোববার থেকে নগরী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করা হবে। এছাড়া নগরীর ৮টি প্রবেশদ্বারে ৮টি চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। খুলনা মহানগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এসব কাজে সহযোগিতা করতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশকে চিঠি দিয়েছে কেসিসি।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে যানজটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত সংখ্যক ইজিবাইক। নগরীতে এখন কমপক্ষে ৩০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সংখ্যক ইজিবাইক রাস্তায় চলাচল করায় যানজট ও সড়ক শৃংখলা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় করণীয় নিয়ে ২০১৬ সালে ১১ মে খুলনার তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই সভার কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয়নি।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর নগর ভবনে তৎকালীন সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনির উদ্যোগে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে স্থানীয় দুই সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো নগরীর বাইরের ইজিবাইক নগরীর ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়া, নগরীর ভেতরে চলাচলকারী ইজিবাইকগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রঙ করা এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক ইজিবাইকের নিবন্ধন দেওয়া। কিন্তু নানা কারণে ওই সময়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেই ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ ও নগরীতে যানজট নিরসনের বিষয়ে তৎপরতা শুরু করে কেসিসি।
কেসিসির সিনিয়র লাইলেন্স অফিসার এস কে তাছাদুজ্জামান জানান, নগরীতে বিপুল সংখ্যক ইজিবাইক চলাচল করে। এছাড়া খুলনা নগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক নগরীতে প্রবেশ করে। অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে নগরীতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এজন্য সিটি মেয়রের নির্দেশে পুরাতন সিদ্ধান্তগুলোই বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নগরীর ৮টি প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। চেকপোস্টগুলো হচ্ছে গল্লামারী মোড়, ময়ূর নদীর ওপর কেডিএর ময়ূরী ব্রিজ, রূপসা সেতু দিয়ে প্রবেশমুখ, মোস্তর মোড়, বাস্তুহারা মোড়, তেলিগাতী ল্যাবরেটরি মোড়, যোগীপোল মোড় ও বাদামতলা বিআরটিএ অফিস মোড়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা বলেন, রোববার থেকে ৩টি মাইক নগরীর ভেতরে ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করবে। তারা এই সিদ্ধান্তের কথা চালক ও মালিকদের জানিয়ে দেবে। ১৫ জানুয়ারি থেকে নগরীর ৮টি চেকপোস্টে পুলিশ ও কেসিসির কর্মচারীরা অবস্থান নেবে। তারা বাইরের কোনো ইজিবাইককে প্রবেশ করতে ও বের হতে দেবে না। এই কাজে সহযোগিতার জন্য কেএমপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কেসিসির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন চালকদের একাংশ। মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মানিক জানান, ইজিবাইকের ব্যাপারে কেসিসির সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। এতে নগরীতে যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে। তবে পরবর্তীতে লাইসেন্স দেওয়া হলে প্রকৃত চালকরা যাতে লাইসেন্স পান সে ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।