২৪ ঘণ্টায় সড়কে নিহত ২৩

কোরবানির ঈদের পর শনিবার সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৩ জন। এর মধ্যে ঐদিন বিকালেই নাটোরের লালপুরে বাসের ধাক্কায় এক পরিবারের তিনজনসহ একটি লেগুনার ১৫ আরোহী নিহত হন।  অন্যান্যদের মধ্যে কুমিল্লায় ও ফরিদপুরে দুজন করে, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও মৌলভীবাজারে একজন করে নিহত হন। এ ছাড়া অপর ব্যক্তি নাটোরের বড়াইগ্রামে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

নাটোর প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম সীমানা সংলগ্ন নাটোর-পাবনা মহাসড়কের  লালপুরের কদিমচিলান এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই এক শিশু সহ ১৫ জন নিহত হয় । পরে বাসটি রাস্তার পাশে গাছে ধাক্কা খেলে এর ২০ আরোহী আহত হন।
নিহতদের মধ্যে ১২ জনের নাম জানা গেছে।এরা হলেন- লেগুনার চালক ঠাকুরগাঁওয়ের রহিম আলী (২৮), নাটোরের বড়াইগ্রামের নারায়ণপুরের রজুফা বেগম (৫০), শেফালী বেগম (৪৫), জামাইদিঘার লগেনা বেগম (৬৫), পাবনার দাশুড়িয়া মিরকামারি গ্রামের শাপলা আক্তার (২০), শাপলার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১১ মাস), পাবনার পাকশির সোবহান আলী (৭৫), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রোকন শেখ (২২), পাবনার পাকশীর সোবহান (৫০) ও মূলাডুলি শ্মশানপাড়ার আদুরি বিশ্বাস (৩৫), তার মেয়ে স্বপ্না বিশ্বাস (দশ মাস) ও ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস (১২)।
ঘটনা তদন্তে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজ্জাকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
একইভাবে রাজশাহী প্রতিনিধি জানান,  কাটাখালীর সমশাদিপুর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে অটোরিকশা উল্টে নানা-নাতি নিহত হন।

আহত হয়েছেন আরও দুইজন। নিহতরা হলেন- কাটাখালী পৌরসভার দেওয়ানপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন (৫০) ও তার নাতি আরাফাত (৩)। থানার ওসি মেহদী জানান, আহত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে নাজিম ও আরাফাতকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর আহত আছিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লা প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লায় ভিন্ন ঘটনায় উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে শ্যামলী পরিবহনের দুটি বাস খাদে পড়ে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ইয়াছিন মিয়া ও বগুড়ার সোনাতলা এলাকার জামাল উদ্দিন।
এছাড়া মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের কালকিনিতে ট্রাকের চাপায় অমল হালদার (৩৫) নামের এক মটরসাইকেলআরোহীর মৃত্যু হয়। একইভাবে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মদনডাঙ্গায় বাসের সঙ্গে নসিমুনের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত পাতারি বেগম (৫০) মহিষগাড়ি গ্রামের হজরত আলির স্ত্রী।
মাগুরায় শনিবার বিকালে মাগুরা ঝিনাইদহ সড়কের আলমখালী নামক স্থানে বাসের চাকায় পিষ্ট সবুজ শেখ (৪০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় শনিবার বিকেলে অটোরিকশার চাপায় এক শিশু নিহত হয়েছে।