২৫শে এপ্রিলঃ খুলনা দিবস

আনোয়ারুল কাদির:: খুলনাকে খুব পুরোনো শহর বলা যাবেনা। শহরের গোড়াপত্তন যদি কয়েক শতাব্দি হয় তাহলে সেটা পুরনো বা ‘ঐতিহাসিক’ হতে পারে। সে হিসেবে খুলনাকে পুরোনো মনে করে খুলনাবাসীর আত্মশ্লাঘার অবকাশ নেই। হ্যাঁ, একটা জায়গায় খুলনা গর্ব করতে পারে, আর তা হলো, অবিভক্ত বাংলার প্রথম মহকুমা খুলনা। আমরা এখন জেলার অবয়বে যে খুলনাকে দেখি এটা মহকুমা হিসেবে জন্মলাভ করে ১৮৪২ সালে। প্রথম মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার নেন মিঃ শের। দ্বিতীয়জন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এখন যেখানে জেলা প্রশাসকের বাসভবন এটাই ছিল তাঁর বাসভবন, এখানে বসেই তিনি লিখেছিলেন ‘দুর্গেশনন্দিনী’। জেলা প্রশাসকের এ বাসভবনটি খুলনা শহরের দ্বিতীয় পাকাবাড়ি। প্রথমটি চার্লি সাহেবের কুঠি। রায়মঙ্গল লবণ এজেন্সির কর্মকর্তা চার্লি সাহেব খুলনা রেলস্টেশনের পূর্বদিকে তাঁর পাকা কুঠিবাড়ি নির্মাণ করেন। আর এ বাড়িকে ঘিরেই কালে কালে গড়ে ওঠে সাহেবের হাট (এখনকার বড় বাজার)। চার্লির কুঠিবাড়িটি এখনও আছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে। তাই খুলনার প্রথম এ দু’টো পাকা বাড়ি ‘শহর খুলনা’র শিকড়।
শিকড় সন্ধান করতে গেলে এই যে রায়মঙ্গল লবণ এজেন্সির কথা বলা হলো এ থেকেই বুঝে নিতে হবে যে খুলনা এক সময় লবণকারবারিদের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। লবণের বেশ বড় বড় ব্যবসায়ী ছিলেন খুলনায়। সমুদ্র উপকূলে নদী মোহনায় লবণচাষ হতো। নৌকায় করে সে লবণ বয়ে নিয়ে আসতেন ইংরেজ আর এদেশি লবণ ব্যবসায়ীরা। লবণবোঝাই নৌকা ভিড়তো ভৈরব কূলে। তবে পশর পেরিয়ে ভৈরব নদীতে আসতে বেশ ধকল পোহাতে হতো, সময় লাগতো প্রচুর। এক লবণ ব্যবসায়ী রূপচাঁদ সাহা দেখলেন যে, কাজিবাছা নদীর মোহনা থেকে ভৈরবের বাঁক (বর্তমান জেলখানা ঘাট) পর্যন্ত মাইল তিনেক খাল কেটে দিলে এ ঝামেলা আর থাকেনা। তখন খুলনা সদ্য মহকুমা হয়েছে। রূপচাঁদ সাহা দুটো বড়নৌকা পাশাপাশি যাওয়া আসা করতে পারে এমন প্রশস্ত করে খাল কাটলেন কাজিবাছার মোহনা থেকে ভৈরবের পূর্বমূখি বাঁক-পর্যন্ত। নাম হল রূপ সাহার খাল। পরবর্তীতে ভৈরবের স্রোত ওই সংকীর্ণ রূপ সাহার খালকে রূপসা নদীতে রূপান্তর করে।
লবণের পাশাপাশি নীলের চাষ-ব্যবসা হতো খুলনায়। খুলনা-দৌলতপুরে নীলকরদের কুঠি ছিল। মজার বিষয় হলো, খুলনার আদিপর্ব জড়িয়ে আছে এ নীলচাষ কেন্দ্রিক মারামারি খুনোখুনিকে ঘিরে। নীলচাষের পর্বটি একটু পরে আলোচনা করা যাবে। এখন ইতিহাসের আরো একটু পিছনে ফেরা যাক। সম্রাট আওরঙ্গজেব সুবা বাংলার দেওয়ান করে পাঠান মুর্শিদকুলী খানকে। তিনি রাজস্ব সংগ্রহের সুবিধার্থে বাংলাকে ১৩টি ‘চাকলা’য় বিভক্ত করেন। তার একটি ছিল যশোহর খুলনা অঞ্চল ছিল যশোহর চাকলার আওতায়। ব্রিটিশ রাজের আগমনের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে রাজস্ব আয়ের দায়িত্ব আসে। পরবর্তীতে রাজস্ব আদায়ের সুবিধা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে যশোহরকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোহর জেলার প্রথম কালেক্টর ছিলেন টিলম্যান হেংকেল।
নীল চাষ হতো তখন এ অঞ্চলে। নীলচাষ নিয়ে কতো দুঃখগাঁথা রয়েছে, আছে কতো সংঘর্ষ বিদ্রোহের কাহিনী। সর্বনাশা এ নীল চাষের অনুমতি আসে ১৭৯১ সালে। ১৮০১ সালে এন্ডারসন দৌলতপুরে সর্বপ্রথম খুলনা অঞ্চলে নীলকুঠি স্থাপন করেন। উইলিয়াম রেনী নামের এক নীলকরের আবাস ছিল ভৈরবতীরে তালিমপুর ইউনিয়নে। তার কর্মচারিদের সাথে স্থানীয় জমিদার শিবনাথ ঘোষের কর্মচারিদের প্রায়ই গোলযোগ চলতো। এটা কোনমতেই যখন দমন করা যাচ্ছিলনা, তখন ১৮৩৬ সালে তালিমপুরে নয়াবাদ নামে থানা স্থাপন করা হয়। প্রথমাদিকে এ থানার দায়িত্ব দেয়া হয় কয়লাঘাটার রায়মঙ্গল লবণ চৌকিকে। এখানে উল্লেখ্য, ১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত রায়মঙ্গল এজেন্সির নিজস্ব একটা নিরাপত্তা চৌকি ছিল। এতেও সংঘর্ষ থামানো যাচ্ছিল না।
যাহোক ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা সৃষ্টির চারদশক পর ১৮৮২ সালে খুলনাকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। এ নিয়ে কলিকাতা থেকে তখন ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। মিজানুর রহমান প্রণীত খুলনার পুরাকীর্তি গ্রন্থে চমৎকারভাবে এগুলোর প্রতিস্থাপন মুদ্রিত হয়েছে। খুলনাকে জেলায় রূপান্তর করার প্রথম গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ১৪ এপ্রিল ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে। এখানে ২৪ পরগণা জেলার সাতক্ষিরা মহকুমা এবং যশোহর জেলাধীন খুলনা (কযড়ড়ষহধ) এবং বাগেরহাট (ইধমরৎযধঃ) কে নিয়ে খুলনা জেলা গঠনের আদেশ জারি হয়। ১লা মে থেকে এটা কার্যকরের কথা বলা হয়। কিন্তু ২৬শে এপ্রিল প্রকাশিত ২৫শে এপ্রিলের আর একটি পরিবর্তিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে ১৪ এপ্রিল ১৮৮২ সালে কলিকাতা গেজেটের ৩৬৫ পৃষ্ঠার (খন্ড-১) প্রকাশিত পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয় এবং পরিবর্তিত গেজেট বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা ধার্য হয় ১লা জুন ১৮৮২। যেহেতু ২৫শে এপ্রিল এ গেজেট স্বাক্ষরিত হয় তাই খুলনা জেলার প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ২৫শে এপ্রিলকে গণ্য করা হয়। নতুন জেলার প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর হয়ে আসেন ডব্লিউ এম ক্লে। নগরীর ক্লে রোড এখনও তাঁর স্মৃতি বহন করে চলেছে। প্রথম সিভিল সার্জেন কৃষ্ণধন ঘোষ। তাঁর নামেও রয়েছে কেডি ঘোষ রোড। ইনি ঋষি অরবিন্দ ঘোষ-এর বাবা। প্রথম মুসলমান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহসান আহমেদ। লন্ডনে থাকাকালে লর্ড কার্জন এর সহপাঠী ছিলেন আহসান আহমেদ। কার্জন যখন ভারতের বড়লাট হয়ে আসেন তখন উর্দুভাষী আহসান আহমেদকে পাটনা থেকে খুঁজে বের করে খুলনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেন।
পুরো ব্রিটিশ যুগজুড়ে খুলনা ছিল কলকাতার উপকন্ঠের শহর। ছবির মতো ছোট্ট ছিমছাম শহর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকালে প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত থাকায় খুলনা জেলা সংযুক্ত থাকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে। তারপর দীর্ঘপথ। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় এল। পাঞ্জাব ও বাংলাকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত হলো। কিন্তু সম্প্রদায়গতভাবে এ দু’রাজ্য বিভক্ত করা দুরূহ ছিল। কঠিন ছিল কলকাতা আর লাহোর এর ভাগ্য নির্ধারণ। এসব কাজ করতে ব্রিটিশ ভূমিজরিপ বিশেষজ্ঞ স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফকে ভারতে আনা হয়। র‌্যাডক্লিফ তার দফতর স্থাপন করেন দিল্লীতে ভাইসরয়’র কার্যালয়ের পাশে। তার শর্ত ছিল তিনি যা সিদ্ধান্ত দেবেন বিনাবাক্য ব্যয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগকে তাই-ই মেনে নিতে হবে। এ দু’দলের নেতৃত্ব তখন চরম অসহিষ্ণু এবং অস্থির। যে কোন ভাবেই হোক ভারত বিভক্তি চায়। ক্যাবিনেট মিশন প্লান ভেস্তে যাওয়ার পর এ দু’দলই সম্প্রদায় ভিত্তিতে ভারতকে দ্বিখন্ডিত করতে চায়।
পাঞ্জাব ও বাংলাকে বিভক্ত করার পদ্ধতি ঠিক করতে র‌্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে আরো ৪ জন বিচারপতি নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়। বাংলার বাউন্ডারি কমিশনে ছিলেন দু’জন মুসলমান বিচারপতি এস.এম আকরাম ও এম.এ রহমান আর দু’জন হিন্দু বিচারপতি সি সি বিশ্বাস ও বিজন মুখোপাধ্যায়। তবে আগেভাগেই এরা বলে রাখেন বাংলাবিভক্তির দায়ভার তারা গ্রহণ করবেন না, পুরো ক্ষমতা এ ক্ষেত্রে, তারা ব্যাডক্লিফকেই দিয়ে দেন। ফলে পুরো কমিশন কার্যতঃ ঠুটো জগন্নাথই ছিল। র‌্যাডব্লিফ সিদ্ধান্ত নেন বাংলাকে শুধু জনগোষ্ঠীর সম্প্রদায়গত পরিচয়ে বিভক্ত করা যাবেনা। বিবেচনায় নিতে হবে নদ-নদী, পাহাড় পর্বতের গতিধারা ও অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, বনাঞ্চল, যাতায়াত সুবিধা, নতুন রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনার সুবিধা এসব। আর একারণে মুসলিম প্রধান মুর্শিদাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। অমুসলিম এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। নদীয়া, দিনাজপুর দ্বিখন্ডিত হয় সিলেটে রেফাডেন্ডাম হয়।
সাতচল্লিশে বাংলার মানুষের সাধারণ ধারণা ছিল বাংলাকে সম্প্রদায়গতভাবে বিভক্ত করা হবে। খুলনা জেলায় তখন সম্প্রদায়গতভাবে হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ (শতকরা ৫১.২ ভাগ)। বঙ্গভঙ্গের সময় খুলনা ছিল পশ্চিম বঙ্গের অংশ। খুলনার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন কেসি বসাক, পৌর সভার চেয়ারম্যান মহেন্দ্রনাথ ঘোষ, জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান শৈলেন ঘোষ। অর্থাৎ জেলার মুখ্য তিনজন ব্যক্তিই হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। এটা স্বাভাবিকই ছিল যে খুলনা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে।
এ আশংকা থেকে কিছু নেতৃত্ব স্থানীয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব খুলনাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত করানোর জন্য বাউন্ডারি কমিশনের কাছে আপীল করেন। এতে যুক্তি স্থাপন করেছিলেন আইনজীবী একে ফজলুল হক, হামিদুল হক চৌধুরী। কিন্তু আগেই বলা হয়েছে কমিশনের এ ক্ষেত্রে মতামত দেয়া বা সিদ্ধান্ত নেয়ার কোন ক্ষমতাই ছিলনা। যা কিছু করার র‌্যাডক্লিফ একাই করতেন। এখানে আর একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, সিরিল র‌্যাডক্লিফ ব্রিটিশ সরকারকে শর্ত দিয়েছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের আগে বাংলা ও পাঞ্জাব বিভক্তির কোন তথ্যই প্রকাশ করা যাবে না। তাহলে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে।
আগস্টের ১৬ তারিখ লর্ড মাউনব্যাটেন যান করাচীতে। সেখানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সাথে নিয়ে মূল রাস্তা প্রদক্ষিণ করে পাকিস্তানের ‘স্বাধীনতা’র ‘আনন্দ’ উপভোগ করে ফিরে আসেন দিল্লীতে। পরদিন ভারতের স্বাধীনতা দিবস। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হলেও স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকেই বরণ করে নেয়া হয়।
১৬ আগস্ট অপরাহ্নে দিল্লীতে ভারত ও পাকিস্তানের দুই প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে জওহরলাল নেহেরু ও লিয়াকত আলী খান এবং পাঞ্জাবের শিখ নেতা বলদেব সিং-এর হাতে ‘র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ’ তুলে দেয়া হয়। তখন, এখনকার মত, এত দ্রুত তথ্য প্রবাহের কোন মাধ্যম ছিলনা। তাই স্বাভাবিকভাবে খুলনা জেলার জনসাধারণ ১৭ তারিখ সন্ধ্যার আগে খুলনার পাকিস্তানভুক্তির কথা জানতে পারেননি। ফলে ১৪ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ খুলনা জেলা স্বাভাবিক ধারণায় ভারতের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে মনে করা হয় এবং কোন কোন জায়গায় ভারতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়। পাঞ্জাব ও বাংলা বিভক্ত করে সিরিল র‌্যাডক্লিফ ১৭ তারিখই ইংল্যান্ড চলে যান। কখনও আর এ ভূখন্ডে আসেননি।
খুলনার পাকিস্তানভুক্তির এটাই হচ্ছে প্রকৃত ইতিহাস। দুটি সত্য এখান বের হয়ে আসে। প্রথমতঃ উনিশশ’ সাতচল্লিশের খুলনা কখনও ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং তিনদিন ভারতের অন্তর্ভূক্ত ছিলনা। দ্বিতীয়তঃ খুলনাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কারুরই কার্যত কোন অবদান নেই। ইতিহাস এ তথ্য দেয়না। প্রকৃতপক্ষে তখনকার বাস্তবতাও এমন ছিলনা। সিরিল র‌্যাডক্লিফের সাথে সাক্ষাত করা কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ এর শীর্ষ নেতাদের পক্ষেও সম্ভব ছিলনা। বাউন্ডারি কমিশনের সদস্যরাও তার সাথে কোন যুক্তিতর্কে যাননি কখনও। তাঁর কার্যালয়ে একটা বড় কাঠের টেবিলে পাঞ্জাব আর বাংলার ভূচিত্রের ওপর পেন্সিলের দাগ দিয়েই র‌্যাডক্লিফ তাঁর কার্য সমাধা করেন। ব্রিটিশ সরকারও কোন প্রশ্ন তোলেনি।
তো, খুলনার ইতিহাস অনেক চড়াই উৎরাই’র ইতিহাস। রোমাঞ্চকরও বটে। ১৮৮২ সালের স্ফীতকায় খুলনা এখন শীর্ণ। ১৮৪২ এ প্রতিষ্ঠিত খুলনা মহকুমার অবয়বে এখন খুলনা জেলা। খুলনা জেলার আওতাধীন এককালের সাতক্ষীরা আর বাগেরহাট মহকুমা এখন পূর্ণাঙ্গ জেলা। যাহোক কালের বিবর্তনে খুলনার ভৌগলিক পরিধি কমলেও খুলনার অবস্থানগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
[লেখকঃ শিক্ষাবিদ ও নির্বাহী পরিচালক, সুন্দরবন একাডেমি খুলনা।]