24 মার্চ 2017

খুলনায় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

scret-deathখুলনানিউজ.কম:: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার পল্লীতে মা নাজমা বেগম (৩৫) ও মেয়ে শানজানার (৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানাজা শেষে মা-মেয়ের লাশ দাফন করা হয়। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া নাজমার

শিশুকন্যা আশামনি নাজনিনকে (৪) আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, শ্বশুর বাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর মুখে কীটনাশক দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে নিহতের পিতার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়নের মজিদঘাটা গ্রামের কামাল শেখ (৪২) ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে স্বামী কামাল এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায়ই নাজমার ওপর নির্যাতন করত।

এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। কিন্তু দুই দিন আগেও নাজমা বেগমের ওপর নির্যাতন করা হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নাজমা বেগম এবং তার দুই কন্যা শানজানা ও আশামনি নাজনিন কীটনাশক পান করেছে মর্মে স্বামীর বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

সেখানে দুপুর ১২টার দিকে নাজমা বেগম এবং ভোর রাত ১টার দিকে শানজানা মারা যায়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানাজা শেষে মা-মেয়ের লাশ পিতার বাড়ি ফকিরহাটের খাজুরা গ্রামে দাফন করা হয়।

নিহত নাজমা বেগমের ভাই দিদার অভিযোগ করেন, তার বোন ও ভাগ্নিদের ওপর নির্যাতন করে তাদের মুখে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের খবর দেওয়া হয়। তিনি এ হত্যার বিচার দাবি করেন। নিহতদের স্বজনরা একই অভিযোগ করেন।

নিহতদের স্বজন অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, নাজমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিহত শিশু কন্যা শানজানার কামিজের পকেট থেকে তাদের মৃত্যুর জন্য ‘মোকছেদ, রফিকুল, আমান, ছাদি দায়ী’ বলে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরদিকে, নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকদের অভিযোগ, একই এলাকার মৃত আ. লতিফ শেখের পুত্র মতিয়ার রহমানের (৪০) সঙ্গে নাজমা বেগমের অবৈধ সম্পর্ক ছিল।

এ নিয়ে স্বামী কামালের সঙ্গে তার স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নাজমা খাতুন নিজে কীটনাশক পান করেন এবং তার দুই মেয়েকেও পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

মা-মেয়েদের গোঙানির শব্দে প্রতিবেশীরা  ছুটে আসে। তাদের প্রথমে তিলক হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মা-মেয়ে মারা যায়।

এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের আওতাধীন বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) এনামুল হক জানান, তিনি ঘটনা শুনেছেন। তবে থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি।

// ২৭-০২-২০১৬ //