30 এপ্রিল 2017

আজ বটিয়াঘাটার ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন

খুলনানিউজ.কম:: বটিয়াঘাটা উপজেলার ১ লাখ ৩১ হাজার ৯শ ৮০ জন ভোটারের ভোট প্রয়োগের মধ্যদিয়ে ভাগ্যনির্ধারণ হবে ৭টি ইউনিয়নের সাতজন কর্ণধরের। যে কর্ণধরেরা ইউনিয়নের সকল জনসাধারণের সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেদের আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিয়োজিত করার সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের আজ মঙ্গলবার

সকাল ৮টা থেকে শুরুহচ্ছে একযোগে ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলবে একটা বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এবার উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯ শত ৮০ জন। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ৫ শত ১৪ জন নারী এবং ৬৫ হাজার ৪শত ৬৬ জন।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মোট ৭২টি কেন্দ্রে ৩৮৪টি বুথে একযোগে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১নং জলমা ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ৪১ হাজার ৮শ ১৫ জন, ২নং সদর ইউনিয়নে ভোট সংখ্যা ১৬হাজার ৮জন, ৩নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ১৪হাজার ৯শ ৮৫জন, ৪নং সুরখালী ইউনিয়নে ২০হাজার ৬শ ৯৩জন, ৫নং ভান্ডারকোট ইউনিয়নে ১২হাজার ৯শ ৭২জন, ৬নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ১৩হাজার ৮৭জন, ৭নং আমীরপুর ইউনিয়নে ১২হাজার ৪শত ৮০জন। নির্বাচনে ৭২টি কেন্দ্রে ৭২জন প্রিজাডিং অফিসার, ৩শত ৮৪জন সহকারী প্রিজাডিং অফিসার ও ৫৭৬জন  পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণে নিয়োজিত থাকবেন। এবার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে। যে কারনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন অফিসার ও ৪ জন কনষ্টেবল এবং ৮জন পুরুষ ও ৬জন মহিলা আনসার দায়িত্বে থাকবেন।

এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য একজন অফিসারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি করে পুলিশের মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে ২০ সদস্যের স্ট্রাইকিং ফোর্স। আবার কঠোর নিরাপত্তার স্বার্থে থাকবে হোন্ডা মোবাইল পার্টি ও ৩০ সদস্যের রিজার্ভ টিম। এর মধ্যে ৪জন অফিসার ২৬জন কনষ্টবল। এ ছাড়াও পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণও কম ঝুঁকিপূর্র্ণ ভোট কেন্দ্রে ১৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি ইউনিয়নে বিজিবি ও র‌্যাব এবং কোষ্টগার্ডের মোবাইল টিম। নির্বাচনের আগের দিন থেকে পরদিন পর্যন্ত তারা এ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

সোমবার সকাল থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরন বিধি লংঘনের অভিযোগ থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুঃ বিল্লাল হোসেন খান সহ ৭জন ম্যাজিষ্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে গিয়ে  মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তারই নেতৃত্বে থানার ওসি মামুন অর রশীদ, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যথাক্রমে নির্বাচন কর্মকর্তা নাসিমা বেগম, সিঃ মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও ভ্যাটেনারী সার্জন বঙ্কিম হালদার দিবা-রাত্র কাজ করে চলেছেন।

গত বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আত্মীয়করণ করে দফায় দফায় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও  পোলিং অফিসার পদে রিক্রটিং করে স্ব-স্ব কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকেই জেলা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল বাশার ভূঁইয়া ও নির্বাহী কর্মকর্তা মুঃ বিল্লাল হোসেন খানের নেতৃত্বে ৭জন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কোনো ভোট কেন্দ্রে যাতে জাল, কেন্দ্র দখল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করলেই সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরকে জেল ও জরিমানা প্রদান করে কারাগারে প্রেরণ করছে। সাধারণ ভোটার ও জনতার ইচ্ছার প্রতিফলনের মধ্যদিয়েই আজ সন্ধ্যা নামতে না নামতেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে ৭ ইউনিয়নের সাত কর্ণধরের।

// ২২-০৩-২০১৬ //