26 মার্চ 2017

কবুতর পালনে সফল হয়েছেন দাকোপের আফজাল হোসেন

150520-kobutorখুলনানিউজ.কম:: মানুষের জীবনে বিভিন্ন ধরণের শখ থাকে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শখ কখনো কখনো জীবনের অর্থনীতির চাকাকে যে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ আফজাল হোসেন । খুলনা জেলাধীন দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ধোপাদী মধ্যপাড়া গ্রামে

তার বাস। ছেলের কবুতর পোষার শখ থেকেই তার খামারের জন্ম। ছেলের আবদার মিটানোর জন্য আফজাল ২০০৮ সালে এক আত্মীয়ের বাড়ী থেকে একজোড়া কবুতর এনে দেন। ২ বছরে তার থেকে প্রায় ৪০টি কবুতর হয় কিন্তু হঠাৎ এক সপ্তাহে বনবিড়ালে তার থেকে ২০টি কবুতর নিয়ে গেলে তার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ছেলের কষ্ট দূর করার জন্য আফজাল খুলনাতে কবুতর কিনতে জান। সেখানে এক খামারির সাথে আফজালের পরিচয় হয়, তিনি সব কথা শুনে আফজালকে বিদেশী কবুতর পালনের পরামর্শ দেন। এটা ২০১০ সালের ঘটনা।

আফজাল সেদিন দেশী কবুতর না নিয়ে একজোড়া সিরাজি কবুতর নিয়ে বাসায় আসেন। তখন থেকে দৈনিকের কাজের ফাঁকে আফজাল কবুতরের যতœ নিতে থাকেন। কবুতরের বেশকিছু বাচ্চা হওয়ার পর আফজাল বড় একটি খামারের স্বপ্ন দেখেন। তারপর শহীদুজ্জামান নামের এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে তিনি খুলনা, বগুড়া, চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর খামারে পালনের জন্য সংগ্রহ করেণ। এলাকার অনেকেই আফজালের খামার দেখতে আসে। তার খামার দেখে দাকোপে আরও বেশ কিছু কবুতরের খামার তৈরী হয়েছে।

ক্ষর্তমানে তার খামারে কবুতরের সংখ্যা ৪২৭টি। স্থানীয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কবুতর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতের কবুতর ক্রয়ের জন্য তার খামারে আসেন। আফজাল জানান তার খামারে হলুদ বোখারা,হলুদ জগাবিন,হলুদ সর্টপীচ,হলুদ আউল(আমেরিকা) সহ বর্তমানে ৩০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। অনেক প্রজাতির কবুতর থাকায় ক্রেতারা তার পছন্দমত কবুতর কিনতে পারেন বিধায় তার খামারে কবুতর দ্রুত বিক্রয় হয়।

তিনি জানান, খাবার, ঔষধ এবং অন্যান্য ব্যায় দিয়ে কবুতরের জন্য প্রতি মাসে ব্যায় হয় ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর প্রতিমাসে কবুতর বিক্রী হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার। কবুতরের খামার আমার মত বেকার যুবককে অর্থনৈতীকভাবে স্বাবলম্বী করেছে। এখন আর পয়সার জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হয়না। আফজাল বলেন, এটা একটি লাভজনক ব্যবসা তাই বেকার সমস্যা দূর করার জন্য তিনি অনেক শিক্ষিত যুবকদের কবুতরের খামার করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং খামার তৈরীতে সহযোগীতা করেছেন।

// দীপক রায়, দাকোপ, খুলনা: ২০-০৫-২০১৫ //