28 ফেব্রুয়ারি 2017

আইলার ক্ষতি এখনও ওরা কাটিয়ে উঠতে পারেনি

150525-ailaখুলনানিউজ.কম:: আজ ২৫মে আইলার ৬ বছর পূর্ন হলো। আর এ দিনটি এলে দাকোপের ৩২ নং পোল্ডারের সুতারখালী ও কামারখোলা ইউনিয়নের মানুষের মনে ভেসে ওঠে সেদিনের সর্বনাশা ঝড়ের দুঃসহ স্মৃতি। প্রকৃতি বিরুপ হলে যখন তখন যে পৃথিবী লয় হতে পারে তা

সেদিনের ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫মে প্রলয়ংকারী ঘূর্নীঝড় আইলা আঘাত হানে খুলনা জেলার দক্ষিণ পশ্চিম উপকুলে। ওয়াপদার বাঁধ ভেঙ্গে চোখের নিমিশে প্লাবিত হয় দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন দু’টি । শিবসা ও নলিয়ান নদীর স্রোতের তোড়ে হারিয়ে যায় অনেকের জমি-জমা ভিটে-মাটি।সারা জীবনের তিলে তিলে গড়া সহায় সম্বল হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার ওয়াপদার রাস্তার উপর আশ্রয় নেয় খোলা আকাশের নীচে। ধনি গরিব সকলেই হয়ে পড়ে তাৎক্ষনিকভাবে হতদরিদ্র। খাদ্য বস্ত্র বাস স্থানের অভাবে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। পাশে দাঁড়ায় সরকারী ও বে-সরকারী বিভিন্ন প্রতষ্ঠান। আইলা আক্রান্ত মানুষদের খাদ্য বস্ত্র দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে তারা। গৃহহীন মানুষ রাস্তার উপর ঝুপড়ি বেঁধে কোনোরকমে বসবাস করতে থাকে। একসময় বন্যার পানি সরে গেলে বাড়ী ফিরতে থাকে মানুষ। কিন্তু যাদের জমি ভিটে-মাটি নদীতে বিলিন হয়েছে তারা ফিরবে কোথায়? ভুমীহীন পরিবারগুলি থেকেই যায় রাস্তার উপরে। সুতারখালী ইউনিয়নে ৫৮টি পরিবার আদর্শ গ্রামে ঘরবাড়ী পেলেও অধিকাংশই রয়েছে বঞ্চিতদের তালিকায়।

সরেজমিনে দেখাযায় কামারখোলা ইউনিয়নের জয়নগর ,শ্রীনগর, পশ্চিম শ্রীনগর সুতারখালী ইউনিয়নের
বাইনপাড়া, কাছারীপাড়া, শিকারী পাড়া, কারিকারপাড়া,গাজী পাড়া ও সরদার পাড়ার শত শত পরিবার রাস্তার উপর বাস করছে। তাদের নেই গোছল করার পানি, খাবার পানি, সবজি বাগান,নেই পাকা পায়খানা নির্মানের জায়গা। সকলেই বাধ্য হয়ে ঝুলন্ত পায়খানায় পায়খানা করছে। দুর্গন্ধময় পরিবেশে থেকে এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত কঠিন রোগের শিকার হচ্ছে। এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায়। কর্মসংস্থানের জন্য বাড়ীর কর্তারা পরিবার রেখে চলে গিয়েছে দেশের দূর দুরান্তে। অনেকে আবার সুন্দরবনে মাছ কাকড়া ধরে জীবন জাপন করছে। একেতো রাস্তার উপর বাস তারপর বাড়ীর কর্তারা বাড়ীতে না থাকতে পারায় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে পরিবারগুলি।সূত্রে জানাযায় মাঝে-মধ্যে সুন্দরবনের ডাকাতরাও জোরপূর্বক আশ্রয় নিচ্ছে রাস্তার উপর গড়ে ওঠা বস্তিগুলিতে।সামাজিক নিরাপত্তা না থাকায় মাঝে মধ্যে ঘটছে নানা ধরণের অঘটন। একদিকে নিরাপত্তার অভাব অন্যদিকে দাারিদ্রতা। সহায়সম্বলহীন ছিন্নমূল মানুষ আইলার পর ৩ বছর কোনো ফসল না লাগাতে পেরে ব্যাংক ও এনজিওদের ঋণের জালে আটকা পড়েছে। ঋণ পরিশোধ কিভাবে হবে তাদের জানা নেই। ভিটে-মাটি নদীতে ভেসে যাওয়ায় অনেকেই রয়ে গেছেন রাস্তার উপরে।

শ্রীনগর গ্রামের আক্কাস খাঁ(৬০) বলছিল, বাবা আমারগো ভিটে মাটি সব ভাসে গেছে তাই রাস্তায় পুড়ে রইছি কত প্যান্ট কোট পরা নোক ফটোক তুলে নেজায়,আমারগো দুঃকুর কাহিনী শোনে কিন্তু আমরা কোনহানে ঘর বান্তি যাব তা কেব্বুই কয়না ।

বাইন পাড়ার যমুনাবেগম(৬৫) রাস্তায় অল্প কিছু ধান রৌদ্রে দিয়ে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, কাজের অভাব, পানির অভাব, খাবারের অভাব আমারগো অভাব দিন দিন বাড়তেছে। এ অভাব কবে কাটবে জাননে।আইলার পর দীর্ঘ ৬বছর পূর্ন হলো কিন্তু এই আসহায় মানুষগুলি আজও বাড়ী ফিরতে পারনলনা রাস্তাতেই রয়ে গেল আর কবে ফিরতে পারবে তা কে জানে?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সুতারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম, আশরাফ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় সেবা দিয়ে রাস্তায় বসবাস রত মানুষদের বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে বাস্তহীন পরিবার গুলির নামের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে সরকার তাদের পূনঃর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন।

// দীপক রায়, দাকোপ, খুলনা: ২৫-০৫-২০১৫ //