24 এপ্রিল 2017

দিঘলিয়ায় বাঁধ ভেঙে ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত

160804-khulna-river-errisionখুলনানিউজ.কম:: গত দুই দিনের প্রবল বর্ষণ এবং ভৈরব ও আতাই নদের জোয়ারের পানির চাপে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দক্ষিণ চন্দনীমহলে ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ ভেঙে ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া পুকুর ও মৎস্য

ঘের ভেসে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে দিঘলিয়া ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে বসত বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও নদীতে জোয়ারের পানির চাপে ওই এলাকার আবুল হাওলাদার, বিকাশ বিশ্বাস, রামভদ্র, হরিচাঁদ সরকার, আওয়াল হাওলাদারসহ আরও কয়েকজনের বাড়ি সংলগ্ন ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভুঁইপাড়া, মালোপাড়া, কাঁটাবনসহ দক্ষিণ চন্দনীমহলের ৫ শতাধিক পরিবার জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দীসহ অর্ধ শতাধিক পুকুর, মৎস্য ঘের ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।

বর্তমানে প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।

পাবেল সরদার জানান, তার তিনটি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আজাহার মল্লিকের চিংড়ি ঘের, কালি দাশের পাঙ্গাসের ঘেরসহ বেশ কয়েকটি ঘের তলিয়ে গেছে। এতে করে মৎস্য চাষিরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মিলন বিশ্বাস, রাজ কুমার, খোকন দাস, রশিদ শেখসহ স্থানীয় অনেকে জানান, ভাঙন প্রতিরোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনবহুল সেনহাটী ইউনিয়নের চন্দনীমহলসহ ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে সেনহাটী ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুর রহমান জানান, গত সপ্তাহে তিনি দক্ষিণ চন্দনীমহলসহ কাঁটাবন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু গত দুই দিনের ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত এলাকা সম্পর্কে তাকে কেউ অবহিত করেনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবেন এবং সরকারি কোন অনুদান পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

// ০৪-০৮-২০১৬ //