23 এপ্রিল 2017

খুলনায় পিছিয়ে পড়া স্কুলগুলোই এবার ফলাফলে এগিয়ে

150531-khulna-schoolহাসান হিমালয়:: খুলনা মহানগরী থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। ডুমুরিয়া সদর থেকে আরও ১৬ কিলোমিটার উত্তরের এক গ্রামে শাহপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। অন্য ১০টি গ্রামের বিদ্যালয়ের মতো এখানের ভবনগুলোও জরাজীর্ণ।

শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় বারান্দায়। অপ্রতুল বরাদ্দ এবং অর্থ সংকটে বিদ্যালয় চালাতে অনেক কষ্ট করতে হয় শিক্ষকদের। সেই কষ্টের অবসান হয়েছে গতকাল শনিবার। খুলনার নামীদামি বিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে পাড়াগাঁয়ের এই বিদ্যালয়টি উঠে এসেছে বোর্ড সেরাদের তালিকায়।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের শীর্ষ ২০টি বিদ্যালয়ের ভেতরে ১৫তম অবস্থানে রয়েছে ডুমুরিয়ার শাহপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

খুলনা জেলায় তাদের অবস্থান সপ্তম। বিদ্যালয়ের ৮২ বছরের ইতিহাসে এত ভাল ফলাফল এই প্রথম।

নগরীর খালিশপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে যে একটি বিদ্যালয় আছে খুলনার মানুষ তা’ ভুলেই  গেছে। ওভারহোলিংয়ের অভাবে বন্ধ হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশ জুড়ে এখন শুধু হতাশা। বিদ্যালয়টিও এর বাইরে নয়। শ্রমিক নেই, তাই শিক্ষার্থীও দিন দিন কমে যাচ্ছে। হতাশার মাঝেও আশার আলো জ্বালালো খালিশপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দাপুটে বিদ্যালয়গুলোকে হটিয়ে যশোর বোর্ডের শীর্ষ বিদ্যালয়ের তালিকায় নিজেদের নাম লেখালো তারা। যশোর বোর্ডে তাদের অবস্থান এবার ১৮তম। খুলনায় জেলায় অষ্টম।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের সেরা ২০ বিদ্যালয়ে খুলনার বিদ্যালয় রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে ৪টি বিদ্যালয় এবার প্রথমবারের মতো সেরাদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ৪টি বিদ্যালয়ই ফলাফলের দিক থেকে এতদিন দ্বিতীয় সারির বিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

গতকাল শনিবার শাহপুর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে মেতেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে শিক্ষকরাও যোগ দিয়েছেন। আনন্দের দিনে অনেক শিক্ষককে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে।

প্রধান শিক্ষক সরদার আরজান আলী জানান, তার বিদ্যালয় থেকে এ বছর ৫১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। কারিগরী শাখায় ৬৪ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।

ভাল ফলাফলের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘জেএসসি থেকে এই ব্যাচটিকে আমরা নার্সিং করছি। এদের সবার বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর আমাদের কাছে আছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রদের সমন্বিত চেষ্টার ফল এটা। তিনি বলেন, এরা পড়াশোনায় যেমন ভাল, খেলাধুলায়ও তেমন। অনেকে বলে খেলাধুলা করলে পড়ালেখা হয় না। আমার এই ছেলেগুলোই গতবছর স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর আগে স্কুল ফুটবলে রানারআপ হয়েছে।

দুপুরে খালিশপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া গেল না। সবাই আগেভাগে ফলাফল নিয়ে বাসায় চলে গেছে। প্রধান শিক্ষক আবু ইয়াহিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে বোর্ডে ১৮তম স্থান লাভ করার খবর তিনি প্রতিবেদকের কাছেই প্রথম জানতে পারেন। তিনি জানান, তার বিদ্যালয় থেকে এবার ৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬১ জন পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ জন। কয়েক মাস আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়ায় ভাল ফলাফলের কারণ হিসেবে কিছু বলতে পারলেন না।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল প্রতিবারই জেলায় প্রথম হয়। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাবলিক কলেজ। যথারীতি সরকারি করোনেশন বালিকা বিদ্যালয় জেলায় চতুর্থ এবং জিলা স্কুল পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। প্রথমবারের মতো জেলায় ৫ম অবস্থানে রয়েছে সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুল।

এখানে ১৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৩ জন পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন। খুলনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এর আগেও ৬ষ্ঠ স্থানে ছিল। নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ নবম স্থানে এবং ১০ম অবস্থানে রয়েছে ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলটি এবারই প্রথম সেরা তালিকায় উঠে এসেছে। স্কুলটি থেকে ৬৮ জন অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন।

// ৩১-০৫-২০১৫ //