29 জুন 2017

খুলনায় ৩৭ লবণ মিলের ২৮টিই বন্ধ

150601-labonখুলনানিউজ.কম:: খুলনার লবণ মিলগুলোর অবস্থা ভাল নেই। সময়ের বিবর্তনে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লবণ মিলগুলো। এক সময় খুলনায় ৩৭টি লবণ মিল থাকলেও বর্তমানে আছে মাত্র ৯টি। মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। লগ্নিকারী ব্যাংকগুলোর বিপুল

অর্থ আটকে গেছে। লবণ মিল মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ সালে মূলত খুলনায় লবণ ফ্যাক্টরিগুলো স্থাপিত হয়। অল্প সময়েই ৩৭টি ফ্যাক্টরি চালু হয়। এসব ফ্যাক্টরি স্থাপনে শতাধিক কোটি টাকা লগ্নি হয়।

প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে গড়ে ২০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়। খুলনার লবণ মিলগুলোর উৎপাদিত লবণ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতেও যেত।

খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে খুলনার সুন্দরবন, মিতালী, শাপলা, মেঘনা প্রভৃতি ফ্যাক্টরির লবণ পরিচিত ছিল।

কিন্তু এসব ফ্যাক্টরির বাজার পড়ে যায় মিয়ানমারের অপরিশোধিত লবণের চোরাচালান এবং মংলার ঘসিয়াখালী চ্যানেল বন্ধ হওয়ায়। সূত্রটি জানায়, বিভিন্ন নৌপথ ঘুরে অপরিশোধিত লবণ আনতে ৭৬  কেজির বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা। মিল মালিকরা জানান, ঘসিয়াখালী চ্যানেল চালু না হলে খুলনার বাকি ৯টি মিলও যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চট্টগ্রামের সঙ্গে খুলনার ফ্যাক্টরিগুলোর তারতম্য আগে থেকেই রয়েছে। চট্টগ্রামের মিলে কম দামি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পক্ষান্তরে খুলনায় বেশি দামের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়।

বিদ্যুৎ না থাকলে শ্রমিকদের কাজের অপচয় হয় এবং সে সঙ্গে মেশিনের উৎপাদনের গতিও কমে যায়। ফলে খুলনাঞ্চলের অন্যান্য মিল-ফ্যাক্টরির মতো লবণ ফ্যাক্টরিগুলোও দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক লবণ মিল মালিক জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মিলগুলোর সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় আমরা পারছি না। ঘসিয়াখালী চ্যানেলের সমস্যা আর জ্বালানি সমস্যা আমাদের শেষ করে দিয়েছে। আমরা কয়েকজন ফ্যাক্টরি নিয়ে এখনও অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে আছি। আর কত দিন টিকতে পারব, জানি না।

// ০১-০৬-২০১৫ //