01 মে 2017

রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতেও দাবদাহে পুড়ছে দক্ষিণাঞ্চল

খুলনানিউজ.কম:: গত ৫ বছরের তুলনায় এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে খুলনাঞ্চলে। তারপরও কমতি নেই তাপমাত্রার। তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। গত দুই মাস থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হলেও তাপমাত্রা কমেনি প্রত্যাশা অনুযায়ী। এ অবস্থা আরও বেশ কিছুদিন চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। খুলনা আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মতে,

গত ৫বছরের মধ্যে এবছর খুলনায় বৃষ্টি হয়েছে প্রত্যাশারও বেশি। গত এপ্রিল মাসেই প্রায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর মে মাসে হয়েছে ১২৮ মিলিমিটার। ২০১৪ সালের এপ্রিলে কোন বৃষ্টিপাত হয়নি এ অঞ্চলে আর মে মাসে ছিল ১১৮ মি:মি। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ছিল মাত্র ৭০ মি:মি আর মে মাসে আতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৩০ মি:মি: বৃষ্টিপাত হয়। ২০১২ সালের এপিলে হয় ৫২ মি:মি ও মে মাসে ৬৩ মি:মি। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত ছিল ২৮ মি:মি এবং মে মাসে ১৪৪ মি:মি।

এদিকে বৃষ্টিপাত বাড়লেও তাপমাত্রার কমতি ছিল না এ সময়ে। সংশ্লিষ্ট অফিসের হিসেব মতে, এবছর তাপমাত্রার গড় ছিল প্রায় একই মাত্রার। ফলে জনদুর্ভোগ  বেড়েছে। তবে বিগত বছরে কোন কোন দিন তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। ফলে ওইসব বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হলেও দিনের হিসেবে এর স্থায়য়িত্ব ছিল কম। চলতি বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অপরদিকে ২০১৪ সালে ছিল ৪০ দশমিক ৭, ২০১৩ সালে ছিল ৩৭দশমিক ৫, ২০১২ সালে ছিল ৩৬ দশমিক ৫ এবং ২০১১ সালে ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আমিরুল আজাদ জানান, এপ্রিল-মে মাসকে সাধারণত বৃষ্টির মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও প্রকৃতিগত কারণে বিভিন্ন মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি ও হ্রাস পায়। কিন্তু গত ৫ বছরের মধ্যে গত দু’মাসে এ বছর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেও সে অনুপাতে কমেনি তাপমাত্রা। এ অবস্থা আরও কিছুদিন চলবে।

এদিকে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। অফিস আদালতের কাজেও মানুষ বের হচ্ছে কম। বৃষ্টিপাত বাড়ায় সুপেয় পানির সঙ্কট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। বিগত বছরে এই সময়েই পানির জন্য হাহাকার অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে এবার ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে মনে করছেন নগরবাসী। অপরদিকে বেশী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। রবিশস্য ওঠার সময়ে হওয়া বৃষ্টির কারণে ধান ঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারেনি অনেক কৃষকই। নগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা মাসুম জানান, মাস চারেক আগে নলকূপে পানির জন্য হাহাকার ছিল। কয়েকদফা বৃষ্টি হওয়ায় সুপেয় পানির চাহিদার অভাব কিছুটা কমেছে। জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষক নুর হোসেন জানান, এবছর বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। ধান কেটে ঘরে তোলার সময় বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। এ বৃষ্টিতে ঘের ব্যবসায়ীদের উপকার হয়েছে। কয়রার কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলের ঘের ও সবজি চাষীদের উপকার হয়েছে। মাছের পোনা ফুটতে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। এবছর বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ভাল।

// ০১-০৬-২০১৫ //