24 ফেব্রুয়ারি 2017

১০কোটি টাকার কাজে সিডিউল কিনতে বাধা

খুলনানিউজ.কম:: খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১০ কোটি টাকার কাজের সিডিউল কিনতে পারেনি না সাধারণ ঠিকাদাররা। নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা দৌলতপুরস্থ শিক্ষা ভবনে পাহারা বসিয়ে সিডিউল কিনতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের সাথে খুলনা বিভাগীয়

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ টেন্ডারের মধ্যে খুলনা বিএল কলেজে এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণে পৃথক দু’টি কাজ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনার সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং সাতক্ষীরার সরকারি কলেজে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণে পৃথকভাবে ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা করে দু’টি উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করে খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ কাজের জন্য  সিডিউল বিক্রির শেষদিন ছিল ১৯ মে। কিন্তু অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিজের মতো করে একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন করে সিডিউল বিক্রির শেষ দিন নির্ধারণ করেন ৩১ মে।

সাধারণ ঠিকাদাররা শিডিউল কিনতে দৌলতপুরস্থ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে দুই স্তরের পাহারা বসিয়ে ক্ষমতাসীনরা এ বাধা দেয়। কার্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে পৃথক পাহারা বসানো হয়।

সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করতেই সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে সিডিউল বিক্রিতে বাধা দেয়া হয়। এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম কৌশলে ঢাকায় অবস্থান করে সিডিউল সিন্ডিকেট গড়ে তুলছেন বলেও তাদের অভিযোগ।

তবে খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, সিডিউল কিনতে দেয়া হয়নি এমন কোন অভিযোগ তার কাছে যায়নি। সিডিউল সবার জন্য উম্মুক্ত ছিল। বাধা দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, সাধারণত যেদিন নোটিশ হয় তার পরদিন থেকেই সিডিউল বিক্রির কথা। কিন্তু বিএল কলেজ ও সাতক্ষীরা কলেজের এ দু’টি কাজের ক্ষেত্রে দেখা গেছে শুধুমাত্র দাখিলের দু’দিন আগে অর্থাৎ ৩১ মে ও ১ জুন সিডিউল বিক্রি হয়। আর দাখিলের দিন আজ মঙ্গলবার। সাধারণ ঠিকাদারদের কয়েকজন বলেন, সিডিউল পূরণ করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সময় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র একদিন। তাছাড়া ৫১৫ জন তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের মধ্যে মাত্র ৯জন ঠিকাদার সিডিউল ক্রয় করেছেন। এটি বিএল কলেজের কাজের ক্ষেত্রে। আর সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের ক্ষেত্রে কিনেছেন ৪৯ জন।

// ০২-০৬-২০১৫ //