25 জুন 2017

উন্নয়ন মেলা-২০১৭ তে খুলনার উন্নয়ন চিত্র

খুলনানিউজ.কম:: খুলনা উন্নয়ন মেলার প্রধান ফটকে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর  হাস্যোজ্জল ছবিসহ ‘শেখ হাসিনার দর্শন সব মানুষের উন্নয়ন’ লিখিত পোস্টার। মেলার বিভিন্ন স্টলের প্রদর্শনীতে সেবার নানা দিক তুলে ধরা হয়। খুলনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্টল থেক প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় এখান থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। এসব প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল তিন মাস, চারমাস ও ছয়মাস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে

ব্লক, বাটিক, টেইলরিং, বিউটিফিকেশনে প্রশিক্ষণ সহ হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং ইলেকট্রনিক্স সমাগ্রী যেমন-কম্পিউটার, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশন, ফ্রিজ ইত্যাদি রিপেয়ারিং এ প্রশিক্ষণ প্রদান। এসব ট্রেনিং থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে অসংখ্য যুবক-যুবতী বেকারত্বের অভিশাপ কাটিয়ে উঠছে।

বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বেকারত্বের হার ১৫শতাংশ থেকে আরও নামিয়ে আনার পরিকল্পনা বা¯তবায়নে খুলনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে চলেছে। বিগত আট বছরে খুলনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৩৯ হাজার ৫৭১জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ২২হাজার ৩৯০জন স্বালম্বী হয়েছে।

‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য’ ব্যানারে এমন উক্তি শোভা পাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান  মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলনা, মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলনা এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস খুলনার প্যাভিলিয়নে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলনায় ১৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেডে ২বছর মেয়াদী, এসএসসি ভোকেশনাল কোর্সে ২২টি ট্রেডে ২বছর থেকে ২মাস মেয়াদী ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬টি ভিন্ন ভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও প্রশিক্ষনার্থীদের দেশে এবং বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ সহ কর্মউপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। খুলনা জেলার দিঘলিয়া ও পাইকগাছা উপজেলায় ২টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস খুলনার উল্লেখযোগ্য সেবা সমূহের   মধ্যে কর্মক্ষম যুবক ও যুব মহিলাদের বিদেশে চাকুরি লাভের উদ্দেশ্যে অনলাইন নিবন্ধন, অভিবাসন সংক্রাšত তথ্য সেবা, বিদেশে মৃত কর্মীর লাশ ফেরত আনা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের আইনী সহায়তা প্রদান, অভিবাসন সংক্রাšত অভিযোগ গ্রহণ, প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সšতানদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যšত বর্তমান সরকারের আমলে খুলনা থেকে ১৯হাজার ২৩জন ব্যক্তি চাকুরী নিয়ে বিদেশে গমণ করেছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাট অধিদপ্তর  এবং বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এর প্যাভিলিয়নে পাটের বহুমুখী ব্যবহার এবং পাটজাত পণ্যের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিবিধ প্রদর্শনী শোভা পাচ্ছে। জানা যায় খুলনা জেলায় এ পর্যšত ১২হাজার পাট চাষীকে কৃষি সহায়তা সহ ১২০০জন পাট চাষীকে উন্নত পদ্ধতিতে পাট চাষের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাটজাত মোড়ক বাধ্যতামূলক আইন ২০১০ প্রবর্তন করায় পাটের অভ্যšতরীন ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েছে। বিগত ৮বছরে পাট অধিদপ্তর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১১লক্ষ ৫৮হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায়  করেছে এবং বিভিন্ন প্রকার লাইসেন্স ও ধৃত মামলা হতে ১কোটি ৪৩লক্ষ ৪হাজার ৪৫০টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

বিজেএমসি’র খুলনাঞ্চলে মোট ৯টি পাট কলের সরকারি ঋণ পরিশোধ ও পুন:অর্থায়নের মাধ্যমে পাটকলগুলো সচল রাখা সহ প্রায় ৫০হাজার শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া বর্তমান সরকারের যুগাšতকারী পদক্ষেপ।
// ১০-০১-২০১৭ //