21 ফেব্রুয়ারি 2017

খুলনার আট কোটি টাকার সুইমিংপুলে সাঁতার হয়নি একদিনও!

170110-Swimming poolপ্রবীর বিশ্বাস:: খুলনার সুইমিংপুলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। যার পানি ধারণ ক্ষমতা চার লাখ লিটারেরও বেশি। ২০১৪ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে একই ভাবে পড়ে আছে সুইমিংপুলটি। অর্থ্যাৎ নির্মানের পর একদিনের জন্যও কোনো সাঁতারু এখানে সাঁতার

কাটার সুযোগই পায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনটি পুড়ে যাওয়ায় পানি তোলা যাচ্ছে না পুলটিতে। কবে নাগাদ সমস্যা মিটবে তাও জানা নেই তাঁদের। ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা বলছেন, বিভাগের একমাত্র সুইমিংপুলটি এখন তাঁদের কাছে বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে।

নারীদের খেলাধুলার উন্নয়নে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের উত্তর পর্শ্বে প্রায় ৯ একর জমির ওপর ১৯৯৮ সালে তৈরী হয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১১ সালে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যায়ে উদ্যোগ নেয় ভবন সম্প্রসারণ, হোস্টেল নির্মান, সীমানা প্রাচীর, জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুল নির্মাণের। এগুলোর মধ্যে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে বেশ ঘটা করে ২০১৩ সালের ২৮ আগষ্ট নির্মাণ শুরু হয়েছিলো সুইমিংপুলের। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয় নির্মাণ কাজ। যার নির্মান ব্যায় হয়েছিল প্রায় আট কোটি টাকা। কিন্তু ওই পর্যন্তই। একবার মাত্র পানি তোলা হয়েছিল সুইমিংপুলটিতে। কিন্তু সাঁতার কাঁটার সুযোগ কারো ভাগ্যে হয়নি। তারপর আর পানি তোলাও যায়নি, আছে শুধু কাঠামো।

তবে ‘সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ যখন নগরীর পুকুরগুলোতে বাছাইপর্ব চালিয়েছে তখনও নীরব পুলের কর্তাব্যক্তিরা, এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও। অথচ দক্ষ সাঁতারু তৈরি, সাঁতারে উদ্ধুদ্ধের পাশাপাশি তরুণীরা যাতে অনায়াসে এখানে সাঁতার শিখতে পারে তার জন্যই নির্মিত হয়েছিলো এটি। শুধু তাই নয় এটি খুলনা বিভাগের একমাত্র সুইমিংপুল। ব্যবহার না হওয়ায় ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে উঠছে এটি। শুধু তাই নয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নোংরা আর্বজনায় ছেয়ে গেছে পুলটি। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলেছে। ময়লায় জমে কূপগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঢালাই ভালোভাবে বিন্যস্ত না হওয়ায় ফেটে যাচ্ছে টাইলস। বিষাক্ত কীটপ্রত্যঙ্গের অবাধ বিচরণ এখানে। এছাড়া গোটা ভবনেও ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তরা। মরিচা ধরছে লৌহজাত জিনিসে।

মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের হোস্টেল সুপার বাবুল হোসেন জানান, সুইমিং পুলের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স অভ্যন্তরে বিদ্যুতের একটি সাবষ্টেশন তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু এটি নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে পুড়ে যায়, যা এখনও মেরামত করা হয়নি। ফলে সুইমিং পুল তৈরী হলেও পানির অভাবে সেটি চালু হচ্ছে না। এক জন খেলোয়াড়ের শরীর গঠনের জন্য সুইমিং একটি ভালো ব্যায়াম, যা এই সুইমিংপুল চালু হলে সম্ভব বলে মনে করেন বাবুল হোসেন।

খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা সাধারণ সম্পাদক বেগম ফেরদৌসী আলী বলেন, যে উদ্দেশ্যে আট কোটি টাকা ব্যয়ে পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিলো সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত সংস্কার করে সাঁতারের উপযোগি করে তোলা না হলে এটি আরও নষ্ঠ হতে থাকবে। তাই সুইমিংপুলটি চালু করতে উদ্যোগ নিতে হবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে। আর তা না হলে তিমিরেই থেকে যাবে সব কিছু। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ আনুষ্ঠানিক ভাবে কাউকে নির্মিত অবকাঠামো হস্তান্তরও করেনি। তিনি আরও বলেন, এই সুইমিংপুল তৈরী হলে মহিলা সাঁতারু যেমন তৈরী হবে, তেমন শহুরে অনেক মেয়েরা সাঁতার শেখার প্রতি আগ্রহী হবে ও শিখবে। এছাড়া সুইমিংপুলের মাধ্যমে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা’র আয় হবে যেটা দিয়ে সংস্থাটি চলার ক্ষেত্রে আগামীতে সহায়ক হবে বলেও জানান তিনি।

বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম সরওয়ার জানান, ২০১৬ সালের প্রথমদিকে আগুনে পুড়ে যায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনটি। এ কারণে পানি তোলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে মৌখিক ভাবে বার বার জানানো হয়েছে। এমনকি লেখালেখিও করা হয়েছে কয়েক দফায়। কিন্তু কবে নাগাদ বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনটি ঠিক হবে আর কবে নাগাদ পানি তুলে সাঁতারের উপযোগী করা যাবে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি গোলাম সরওয়ার। তবে এর জন্য পুরনায় বাজেট বরাদ্দ না হলে এটি ঠিক হওয়া সম্ভব নয়।
// ১০-০১-২০১৭ //