25 জুন 2017

উত্তরাঞ্চলে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি, দক্ষিণ-পশ্চিমেও বইছে শৈত্য প্রবাহ

খুলনানিউজ.কম:: মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তর, উত্তরপূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ ছিল  মেঘলা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী, রংপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনিসংহ ও সিলেট বিভাগের  কোনো  কোনো এলাকায়। এতে তাপমাত্রা কমে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। অপরদিকে খুলনা যশোরে বয়ে যায় শৈত্য প্রবাহ। ফলে শীতের মাত্রা বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। এর পরই মেঘলা আবহাওয়া কেটে গিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে  মৌসুমের তৃতীয় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। গতকাল পৌষের ২৭ তারিখ মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৪ ডিগ্রি  সেলসিয়াস।
আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত  থেমে  থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। মেঘলা আকাশে সূর্যের দেখা নেই। এতে  ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। রাজশাহীতে সকাল  থেকে  বেলা ১২টা পর্যন্ত এক দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আব্দুস সালাম জানান, রাজশাহীতে মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা  বেশি হলেও বৃষ্টির কারণে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়েছে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাসে নাটোরে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার  ভোর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল চারপাশ। সারাদিনে সূর্যের  দেখা  মেলেনি। শীত জেঁকে বসায় অনেকে ঘর  থেকে বেরোননি। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ও অফিস-আদালতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। শহরের ব্যস্ততম কানাইখালি, আলাইপুর ও  স্টেশনবাজার এলাকায়  দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার সমাগম ঘটেনি। অনেকে দুপুরের মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।
কানাইখালি মসজিদ মার্কেটের মোবাইল ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বলেন, অন্য সময় কয়েকশ ক্রেতা এলেও  বৈরী আবহওয়ায় এদিন পাঁচজন মানুষও তার দোকানে আসেনি।
এই আবহাওয়ায় চলনবিল এলাকায় ধান লাগাতে নামতে পারেননি চাষীরা। সিংড়ার কোরবান আলী বলেন, “শীতে বৃষ্টি সহ্য করা মুশকিল হচ্ছিল বলে মাঠে নামতে পারিনি। এ ধরনের আবহাওয়া চললে ধান লাগানো ব্যাহত হবে, চারাও নষ্ট হয়ে যাবে।”
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, পৌষের শেষ সপ্তাহে এসে  দেশের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তাপমাত্রা কমছে। কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে মেঘলা আকাশে সূর্যের  দেখা না মেলায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। আজও তা’ অব্যাহত থাকবে। রাজধানীসহ অনেক এলাকায় উত্তরে হাওয়া বাড়ায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে।  মেঘলা আবহাওয়া  কেটে গিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর-পশ্চিাঞ্চলে আরেক দফা  শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

// ১০-০১-২০১৭ //